মশার জ্বালায় অতিষ্ঠ রূপগঞ্জ-পূর্বাঞ্চলের ৭ লাখ জনগোষ্ঠী!

rup mosa
ad

রাসেল আহমেদ: মশার জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে রাজধানীর পূর্বাঞ্চল ও রূপগঞ্জ উপজেলার ৭ লাখ জনগোষ্ঠী। বালু ও শীতলক্ষ্যা নদের পঁচা পানির কারণে মশার উৎপাত বেশি হচ্ছে ওইসব এলাকায়। তবে মশার উপদ্রব অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছলেও নিধনে নেই কোনো কার্যকর ভূমিকা।

জানাগেছে, বালুনদ ও শীতলক্ষ্যার আশেপাশে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা, ডোবা ও লেকগুলো কচুরিপানায় পূর্ণ হয়ে থাকায় মশার এই উপদ্রব। নদ দুইটির আশেপাশের এলাকায় প্রত্যেকটি ঘর চলে গেছে মশার দখলে। কয়েল, স্প্রে ও মশারী ব্যবহার করেও আক্রমণ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না মানুষ। মশা নিধনে নির্বিকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বাস্থ্যবিভাগ। তবে তারা বলছেন, সরকারিভাবে মশা নিধনে কোনো বরাদ্দ না থাকায় কিছু করা যাচ্ছে না।

সরেজমিনে ঘুরে জানাগেছে, রূপগঞ্জের ৪ লাখ বাসিন্দা মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি রাজধানী পূর্বাঞ্চলের ডেমরা, নাসিরাবাদ, বেরাইদসহ আশপাশের আরও ৩ লাখ মানুষ মশার জ্বালায় এখন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে।

কথা হয় নগরপাড়া এলাকার নুরুল হক মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, রাত-দিন সমানে মশার জ্বালায় অতিষ্ঠ আমরা। এরশাদের আমলে মাঝেমাধ্যে হেলিকপ্টারে করে মশার ওষুধ ছিটানো হতো, তখন ভালোই ছিলাম। কিন্তু এখন আর এগুলো চোখে পড়ে না।

বাগবাড়ি এলাকায় থাকেন কামাল আহম্মেদ রঞ্জু। ব্যবসার খাতিরে সারাদিন বাইরে-বাইরে কাটাতে হয়। তার স্ত্রী ফেরদৌসি আক্তার জানান, তার নাতীকে স্কুলে পাঠিয়ে দিয়ে আরেক নাতীকে নিয়ে চিন্তায় থাকতে হয়। দেড় বছরের নাতীকে দিনে শুইয়ে রাখলে মশা কামড়িয়ে দাগ বসিয়ে দেয়। দিনে-দুপুরে মশারি খাটিয়ে রাখতে হয় নাতীর জন্য। তাতেও  রেহাই পাওয়া কষ্ট। আর রাত হলে তো কথাই নেই। মশার ভন-ভন শব্দে কান ঝালাপালা হয়ে যায়। এতো মশা অথচ সরকার এইগুলা দেখে না।

স্থানীয়রা জানান, কয়েল জ্বালিয়ে, ধূপ পুড়িয়ে, এ্যারোসল স্প্রে করে কিংবা মশা মারার বৈদ্যুতিক ব্যাট ব্যবহার করেও  মশার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যাচ্ছে না। মশার যন্ত্রণায় স্কুল-কলেজে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদানে বিঘ্ন ঘটছে।

বালু ও শীতলক্ষ্যা নদের তীরবর্তী লোকজন জানান, আগে আমাদের এলাকাতে মশা ছিল না। এই অভিশপ্ত পঁচা পানি আসার পর থেকে মশার উপদ্রব বাড়তে থাকে। বালু ও শীতলক্ষ্যা নদের পচা পানি মশার বংশ বৃদ্ধির কারণ। তাছাড়া নোংরা ড্রেন ও জলাশয়তো রয়েছেই।

রূপগঞ্জের নগরপাড়া, খামারপাড়া, কামসাইর, ইছাখালী, বড়ালু, পাড়াগাও, পূর্বগ্রাম, গঙ্গানগর, রূপসী, মুড়াপাড়া, বানিয়াদি, নিমেরটেক, বরুনা, নাওড়া, মাঝিনা, হরিণা, বাঘবাড়ী, দেইলপাড়া, নয়ামাটি, দক্ষিণপাড়া, কেওডালাসহ প্রায় শতাধিক গ্রামের মানুষ মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।

বালুরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ গোপাল সরকার বলেন, ক্লাশে ছাত্রছাত্রীদের পড়ানোর সময়ও মশায় কামড়ায়। মশার জ্বালায় ছাত্রছাত্রীরা ঠিকমতো লেখাপড়াও করতে পারছে না।

কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাসুম আহমেদ বলেন, মশার যন্ত্রণার কথা আসলে বলে বুঝানো যাবে না। তবে পঁচা পানির কারণে মশার উৎপাতটা বেশি। সরকারিভাবে বরাদ্দ পেলে হয়তো ফগার মেশিনের সাহায্যে মশার ওষুধ ছিটিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া যেতো।

তারাবো পৌরসভার মেয়র হাছিনা গাজী জানান, মশার যন্ত্রণা আছে ঠিকই। তবে পৌরসভার মশক নিধন কাজে নিয়োজিত কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিদিন মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। পৌরবাসী এর সুফলও পাচ্ছে।

কয়েকজন জনপ্রতিনিধি বলেন, মশার উপদ্রব এটা সত্যি কথা। কিন্তু সরকারিভাবে কোনো ব্যবস্থা না নিলেতো আমরা কিছু করতে পারছি না। তবুও চেষ্টা করছি।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতিক) বলেন, রূপগঞ্জের আনাচে-কানাচে ব্যাপক মৎস্য চাষ হচ্ছে। ফসল ফলানো হচ্ছে। মশার ওষুধ ছিটালে মৎস্য খামার ও ফসলের ক্ষতি হবে। এসব কথা ভেবেই মশার ওষুধ ছিটানো হয় না।

তিনি বলেন, পৌরসভাগুলোতে এ খাতে বরাদ্ধ অনুযায়ী মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জনগণ এর সুফলও পাচ্ছে। তবে চেষ্টা চলছে বিকল্পভাবে মশা কিভাবে নিধন করার।

ad