মাদকবিরোধী অভিযান: নিহত আরও ৪

Gunfight, 2 extremists, dead
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে তিন জেলায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (৪ জুন) দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার (৫ জুন) ভোর পর্যন্ত বন্ধুকযুদ্ধ এবং গোলাগুলির ঘটনায় তারা নিহত হয় বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করেছে।

ময়মনসিংহ:

ময়মনসিংহ নগরীতে মুন্না মিয়া (৩০) ও ইদ্রিস আলী (৪৫) নামের দুই মাদক বিক্রেতার গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া গেছে বলে দাবি করছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৫ জুন) বেলা ১২টার দিকে কেওয়াটখালী রেল সেতুর নিচ থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয় বলে জানান ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম।

ওসি বলেন, স্থানীয়রা রেলসেতুর নিচে দুটি লাশ পরে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তা উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতদের মধ্যে মুন্নার নামে ১২টি মাদক মামলা এবং ইদ্রিসের নামে আটটি মাদক মামলা রয়েছে বলে জানালেও কে বা কারা তাদের হত্যা করেছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।

বগুড়া:

বগুড়ায় ডিবি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে লিটন রিগেন (৩২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের কনস্টেবল মিন্টু এবং কালাম আহত হয়েছে

সোমবার (৪ জুন) রাত দুইটার দিকে শহরতলীর মাটিডালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে দুটি চাপাতি এবং ২০০ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত মাদক ব্যবসায়ী চকসূত্রাপুরের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। সে ফুলবাড়ি মধ্যপাড়ায় বসবাস করছিল। তার নামে থানায় পাঁচটি মাদকের মামলা রয়েছে।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) সনাতন চক্রবত্তী বলেন, অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে একজনকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ তাকে শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর পৌনে ৪টার দিকে সে মারা যায়।

রংপুর:

রংপুরের কাউনিয়ায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দকযুদ্ধে দবির হোসেন (৪৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার ভোর ৩টার দিকে উপজেলার হারাগাছা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রংপুর-হারাগাছ সড়কের ছোটপুলের কাছে এ গোলাগুলি ঘটনা ঘটে বলে কাউনিয়া থানার ওসি মামুন অর রশীদ জানান।

দবিরওই পৌরসভার ৫ পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের চ্যাংটারী গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী সোহরাব হোসেনের ছেলে। তার নামে কাউনিয়া থানায় দশটি মাদক মামলা রয়েছে বলে ওসির ভাষ্য।

ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় পিস্তল, তিনটি ছোরা, ১২৬টি ইয়াবা ও ১৪৩ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

দিনাজপুর:

দিনাজপুরে ‘গোলাগুলির’ দুই ঘটনায় পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় লুৎফর রহমান ও আফতাব উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৫ জুন) ভোরে হাকিমপুর উপজেলায় এবং সোমবার গভীর রাতে সদর উপজেলায় গোলাগুলির ওই ঘটনা ঘটে।

আহত লুৎফর সদরের তানিয়া গ্রামের এনামুলের ছেলে ও আলাউদ্দিন হাকিমপুরের মধ্য বাসুদেবপুর গ্রামের আফতাব উদ্দিনের ছেলে। তাদের দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি রেদওয়ানুর রহিম বলেন, রাত আড়াইটার দিকে সদর উপজেলার গোদাগাড়ি এলাকায় দুই দল মাদক বিক্রেতার মধ্যে গোলাগুলির খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ।
পরে ঘটনাস্থল থেকে লুৎফরকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় সেখান থেকে ফেনসিডিলও উদ্ধার করা হয়।

হাকিমপুর থানার ওসি আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, ভোরে হাকিমপুরের হিলির চুড়িপট্টি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আলাউদ্দিনের পায়ে গুলি লাগে। পরে ঘটনাস্থল থেকে আলাউদ্দিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকেও বেশ কিছু ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।

ad