মানহানির ২ মামলায় খালেদাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ

Khaleda, verdict, certified copy, mismatch,
ad

জাগরণ ডেস্ক: পতাকা অবমাননা ও ভুয়া জন্মদিন পালনের দুই মানহানির মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৭ মে) বকশিবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ভুয়া জন্মদিন পালন মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম খুরশীদ আলম ও পতাকা অবমাননা করার মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবীব এ আদেশ দেন। আদালত আগামী ৫ জুলাই পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত খালেদার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার জন্য নির্দেশ দেন এবং জামিনের আবেদন নথিভুক্ত করেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, খালেদা জিয়া চার মাস ধরে কারাগারে আটক রয়েছেন। পুলিশ চার মাসেও তার গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল করতে পারেনি তা তাদের ব্যর্থতা। সব বিবেচনায় মাথায় রেখে খালেদা জিয়ার জামিন চাই।

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু বলেন, পতাকা অবমাননা ও ভুয়া জন্মদিন পালন মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি আগে কার্যকর তার পর জামিন শুনানি হবে।

এর আগে ২৫ এপ্রিল খালেদার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ও জিয়া উদ্দিন জিয়া তার জামিনের আবেদন করেন। আদালত শুনানির জন্য ১৭ মে দিন ধার্য করেন। অন্যদিকে খালেদাকে হাজির করানোর জন্য আবেদন করেন আইনজীবীরা। আদালত এ বিষয়ে আদেশের জন্য একই দিন ধার্য করেন।

২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন গাজী জহিরুল ইসলাম। ওই বছরের ১৭ অক্টোবর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়।

অপরদিকে, বাংলাদেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্টেট আদালতে মামলা করেন বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী।

ভুয়া জন্মদিন পালনের মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার একাধিক জন্মদিন নিয়ে ১৯৯৭ সালে দুটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর ম্যাট্রিক পরীক্ষার মার্কশিট অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ১৯৪৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে একটি দৈনিকে তার জীবনী নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জন্মদিন ১৯৪৫ সালের ১৯ আগস্ট। তার বিয়ের কাবিননামায় জন্মদিন ১৯৪৪ সালের ৪ আগস্ট। সর্বশেষ ২০০১ সালে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট অনুযায়ী তার জন্মদিন ১৯৪৬ সালের ৫ আগস্ট।

বিভিন্ন মাধ্যমে তার পাঁচটি জন্মদিন পাওয়া গেলেও কোথাও ১৫ আগস্ট জন্মদিন পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় তিনি পাঁচটি জন্মদিনের একটিও পালন না করে ১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকীর দিন জাতীয় শোক দিবসে আনন্দ-উৎসব করে জন্মদিন পালন করে আসছেন। শুধু বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার জন্য তিনি জন্মদিন পালন করেন।

পতাকা অবমাননার অভিযোগে দায়ের মামলায় বলা হয়, ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের সঙ্গে জোট করে নির্বাচিত হয়ে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি রাজাকার-আলবদর নেতাকর্মীদের মন্ত্রী-এমপি বানিয়ে তাদের বাড়ি ও গাড়িতে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকা তুলে দেন।

ad