রাজশাহীতে বাঁধ ভেঙে পানির নিচে ১৩৬৮ হেক্টর ফসলি জমি

Rajshahi, under the water, 1368 hectares, crop field,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বাঁধ ভেঙেছে রাজশাহীর শিবনদ এবং ফকিন্নি নদীর। ভারি বর্ষণে ফুলে ফেঁপে উঠেছে বিলগুলো। এতে তলিয়ে গেছে জেলার মোহনপুর, বাগমারা, তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলার ১ হাজার ৩৬৮ হেক্টর ফসলি জমি। ভেসে গেছে অন্তত ১৫০টি পুকুর। ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়েছে কোটি টাকা।

রবিবার (১৩ আগস্ট) বাগমারার বিরকয়া এলাকায় নওগাঁর আত্রাই নদী হয়ে আসা উজানের পানির তোড়ে ভেঙে গেছে ফকিন্নি নদীর বাঁধ। ওইদিনই বিল ছাপিয়ে পানি আসায় মোহনপুরের ভীমনগরে বাঁধ ভেঙেছে শিবনদের। এতে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এ দুই এলাকার ফসলি জমি। পানি প্রবেশ করেছে লোকালয়েও। এখনও বাঁধ মেরামত না হওয়ায় আতঙ্কে এখানকার হাজারো মানুষ।

বাগমারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু জানান, ফকিন্নি নদীর বাঁধের ৩০০ মিটার ভেঙে গেছে। প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে ভাটির নাককাটি বিলে। পানি প্রবেশ করেছে লোকালয়ে। এতে বাসুপাড়া, বিরকয়া, খয়রা, মুন্দিয়াল, ইসলা, হলুদঘর, কামনাগর ও মাইপাড়া এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে বাণিজ্যিক মাছের খামার, তলিয়ে গেছে ফসলি জমি।

মোহনপুরের ধুরইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজিম উদ্দিন সরকার বলেন, ইউনিয়নের ভীমনগর এলাকায় শিবনদের বাঁধ ৫০ মিটারের মত ভেঙে গেছে। সোমবার (১৪ আগস্ট) থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতে কাজ শুরু করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তারা।

এরইমধ্যে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে ওই ইউনিয়নের ভীমনগর, লক্ষীপুর, পালসা, খানপুর, মজলিশ বাড়ী, মল্লিকপুর, পিয়ারপুর। পানি প্রবেশ করেছে পাশের ঘাষিগ্রাম ইউনিয়নের মহিষকুণ্ডী, শ্যামপুর, আতা নারায়নপুর, ঘাষিগ্রাম ও পাইকপাড়ায়। দ্রুত বাঁধ মেরামমত না হলে তলিয়ে যাবে উপজেলার বাকশিমুইল, জাহানাবাদ, রায়ঘাটি ও মৌগাছি ইউনিয়নসহ পাশের বাগমারা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মোহনপুরে ৬৬৯ হেক্টর এবং বাগমারায় ৮৪ হেক্টর ফসলি ক্ষেত সম্পূর্ণ ডুবে গেছে। এছাড়া, আংশিত ডুবেছে তানোরের ৩১০ হেক্টর এবং গোদাগাড়ীর ৩০৫ হেক্টর ফসলি জমি। জলমগ্ন হয়েছে উঠতি রোপা আমন, আউশ ক্ষেত, সবজি ক্ষেত ও পান বরজ।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দেব দুলাল ঢালি বলেন, বৃষ্টিপাত কমে আসায় তানোর ও গোদাগাড়ীর ডুবে যাওয়া ক্ষেতের পানি নামছে। তবে মোহনপুর ও বাগমারার পানি নামতে সময় লাগবে। তিন থেকে চারদিনের মধ্যে পানি না নামলে ব্যাপক ক্ষতি হবে। পানি নেমে যাবার পরে তারা ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণ করবেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সাহা জানিয়েছেন, বন্যায় শুধুমাত্র বাগমারার বাসুপাড়া ইউনিয়নের দেড় শতাধিক বাণিজ্যিক পুকুর ভেসে গেছে। এছাড়া আশঙ্কাজনক অভস্থায় রয়েছে আরও ১৫০ পুকুর। তবে এখনও মোহনপুর, গোদাগাড়ী কিংবা তানোরে পুকুর ভেসে যাবার খবর মেলেনি। এতে ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণে কাজ চলছে।

এদিকে, দিনভর জেলার মোহনপুরে শিবনদ এবং বাগমারায় ফকিন্নি নদীর ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামত তদারকি করছিলেন রাজশাহী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান। তিনি বলেন, শিবনদ এবং বাগমারায় ফকিন্নি নদীর বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জরুরি মেরামতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। তবে প্রবল বেগে পানি নামতে থাকায় মেরামত কাজ বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, আগামী তিনদিনের মধ্যে বাগমারায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত সম্ভব হবে। একই সময়ের মধ্যে মেরামত হয়ে যাবে মোহনপুরের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধও। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মীরা এ নিয়ে রাতদিন কাজ করছেন। এরইমধ্যে শিবনদ ও ফকিন্নি নদীর বাঁধের বিপদজ্জনক অন্তত পাঁচটি পয়েন্ট সুরক্ষিত করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

এদিকে, বিপদসীমার মাত্র ১ দশমিক ৭৬ মিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এককালের প্রমত্তা পদ্মা। গত ২৪ ঘন্টায় রাজশাহীতে পদ্মায় প্রবাহ বেড়েছে ৩২ সেন্টিমিটার। রাজশাহীতে পদ্মার বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাজশাহী নগরীর বড়কুঠি স্লান্টিং গেজ পাঠক এনামুল হক জানান, সোমবার সকাল ৬টায় বড়কুঠি পয়েন্টে পদ্মায় প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৬২ মিটার। সন্ধ্যা ৬টায় তা গিয়ে দাঁড়ায় ১৬ দশমিক ৭৪ মিটারে।

এর আগে রবিবার সকাল ৬টায় ১৬ দশমিক ৪২ মিটার এবং সন্ধ্যা ৬টায় ১৬ দশমিক ৫৭ মিটার প্রবাহ রেকর্ড করা হয়। গত এক সপ্তাহ ধরে দ্রুতই পানির প্রবাহ বেড়েছে।

ad