রাজাকারের বিরুদ্ধে কথা বলায় চাকরিচ্যুত দুই নারী চাকরি ফেরত চান

Selim Sarker Family
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে কথা বলায় ফারমার্স ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শারমিন সুলতানা ও শিরিন সুলতানা তাদের চাকরি ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

চাকরিচ্যুত শারমিন সুলতানা জানান, ২০১৬ সালের  ১৮ জানুয়ারি ফারমার্স ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ট্রেইনি অফিসার পদে তার এবং একই বছরের ৫ জুন ট্রেইনি অফিসার পদে ধানমন্ডী শাখায় তার বোন শিরিন সুলতানার চাকরি হয়। ২০১৭ সালের ১৪ মে হেড অফিসের এইচ আর ডিপার্টমেন্ট থেকে তাদের দুইজনকে বলা হয় চাকরি থেকে পদত্যাগ করার জন্য।

তিনি বলেন, এর কারণ জানতে চাইলে এইচ আর ডিপার্টমেন্টের শ্যামল দত্ত বলেন, তোমাদের বাবা চিশতী স্যারের কথা শুনেন না তাই। পরে আমরা চাকরি থেকে পদত্যাগ না করে দুইদিন পর অর্থাৎ ১৬ মার্চ অসুস্থতার সার্টিফিকেট দিয়ে চলে আসি।

তিনি আরও বলেন, আমার বাবা সেলিম সরকার একজন মুক্তিযোদ্ধা। সরকারের দেয়া “বীর নিবাসে” বসবাস করছি। এখন আমাদের চাকরির বয়সও চলে গেছে তাই অন্য কোথাও চাকরি পাচ্ছি না। পরিবারের ওপর আমরা দুই বোন এখন বোঝা হয়ে গেছি।

মুক্তিযোদ্ধা সেলিম সরকার জানান, রাজাকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইলেট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় কথা বলায় ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতী তাকে নিজ বাসায় নিয়ে রাজাকারদের বিরুদ্ধে কথা বলতে নিষেধ করেন। তার নিষেধ অমান্য করায় ফারমার্স ব্যাংকে কর্মরত আমার দুই মেয়ে শারমিন সুলতানা এবং শিরিন সুলতানাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তাদের চাকরি চলে যাওয়ায় এখন আমি মহাবিপাকে পড়েছি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ করেও কোনো ফল হচ্ছে না।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা হেকিম মন্ডল জানান, অনেক কষ্ট করে মুক্তিযোদ্ধা সেলিম সরকার তার মেয়েদের পড়াশোনা করিয়ে চাকরি দিয়েছে। মেয়েদের উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বীর নিবাসে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন তারা। তাই সরকার যদি বিষয়টি নজরে নিয়ে মেয়েদের চাকরিতে পুনর্বহাল করে তাহলে পরিবারটি রক্ষা পাবে।

জেলা মানবাধিকার কর্মী এমদাদুল হক মিল্লাত জানান, বিনা কারণে কাউকে চাকরিচ্যুত করা আইনের লঙ্গন। সরকারি অথবা বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সুর্নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের ক্ষেত্রে সেটি আরও বিবেচ্য বিষয়। কিন্তু নীতিমালা না মেনেই ওই দুইজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

এ বিষয়ে ফারমার্স ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার শ্যামল কুমারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতী বর্তমানে দুদকের মামলায় জেলহাজতে আছেন।

ad