চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস বন্ধ ঘোষণা

ctg bandor
ad

নিজস্ব প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের দিকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় মোরার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ নম্বর অ্যালার্ট (দুর্যোগ মুহূর্তে প্রস্তুতি সতর্কতা) জারি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে বাঁচতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙ্গরসহ সব ধরনের পণ্য খালাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মোরা সোমবার (২৯ মে) সন্ধ্যায় কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করার সময় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জুড়ে আঘাত হানতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় মোরা মোকাবেলায় ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে রেড অ্যালার্ট-৩ জারি করা হয়েছে। সরিয়ে নেয়া হচ্ছে মালবাহী জাহাজ। রিভারমুরিং থেকে ১০টি বড় জাহাজ গভীর সমূদ্রে পাঠানো হচ্ছে। ছুটি বাতিল করা হয়েছে বন্দরসহ চট্টগ্রামের জেলা ও উপজেলার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নার্সদের।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, মোরার প্রভাবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরের জন্য সাত নম্বর বিপদ সংকেত জারি করেছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী এবং চাঁদপুর অঞ্চলের দ্বীপ এবং চর সমূহ সাত নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ থাকবে ৬২ কিলোমিটার। দমকা ও ঝড়ো হাওয়ার আকারে এটি ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৫২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছে।

আজ সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদ শাহীনুর ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ঘুর্ণিঝড়টি এখনো অতি তীব্র নয়। এটি এখনো মাঝারি ধরনের ঘূর্ণিঝড়। যেহেতু এটি সমুদ্রে অবস্থান করছে, সেজন্য সন্ধ্যা নাগাদ এর শক্তি বেড়ে যেতে পারে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের নোটিশে বলা হয়েছে, বহিঃনোঙ্গরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য খালাস এবং জেটিতে অবস্থানরত জাহাজে কন্টেইনার ও কার্গো জাহাজের লোড-আনলোডসহ সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক জানান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৭ নম্বর সংকেত ঘোষণার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। বেলা ১২টার দিকে ঘূর্ণিঝড় পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণে অ্যালার্ট-৩ জারি করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় মোরা মোকাবেলায় চট্টগ্রাম বন্দরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, নগরীসহ জেলার সকল চিকিৎসক ও নার্সদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বন্দর কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দর সচিব ওমর ফারুক।

ad