সিদ্ধিরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের ওপর পরিবহন শ্রমিকদের হামলা

Jagoran- shiddhirganj, students, transport workers, attacks,
ad

জাগরণ ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বিভিন্ন স্কুল–কলেজগামী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে পরিবহন শ্রমিকরা।

বুধবার (১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পরিবহন শ্রমিকরা অবরোধ করে বিক্ষোভ করার মাঝে এ হামলা চালায়। তারা এ সময় কয়েকজন কিশোরের ওপর হামলা চালায় এবং মারধর করে। পরে চারজনকে তারা পুলিশে দেয়।

স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে গাড়ি ভাঙচুরের প্রতিবাদে সিদ্ধিরগঞ্জ-মৌচাক এলাকার পরিবহন শ্রমিকরা সকাল থেকে অবরোধ করে আছে। তারা স্কুলব্যাগ ও ইউনিফর্ম পরা ছেলেদের দেখলে হয়রানি করছে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় পরিবহন শ্রমিকরা বিভিন্ন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান এবং তাদের মারধর করেন।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আবদুস সাত্তার বলেন, পরিবহন শ্রমিকরা চার কিশোরকে থানায় দিয়েছে। তাদের মধ্যে একজন রায়েরবাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। দুইজন হকার। অন্যজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

কেন তাদের মারধর ও আটক করা হয়েছে তা জানাতে পারেননি ওসি। তিনি বলেছেন, চারজনকেই তারা ছেড়ে দেবেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সকাল ৮টার দিকে পরিবহন শ্রমিকরা যানবাহন ভাঙচুর ও নিরাপত্তাদের দাবিতে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নেন। এ সময় তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে।

পরিবহন শ্রমিকরা মহাসড়কের দুপাশে (ঢাকাগামী ও চট্টগ্রামগামী) যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। গণপরিবহন ঢাকায় ঢুকতে ও ঢাকা থেকে বের হতে বাধা দেয়। এতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রী।

পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। এ কারণে তাদের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হচ্ছে। পরিবহনশ্রমিকদের মারধর করা হচ্ছে। এটা মেনে নেয়া যায় না। পরিবহন শ্রমিকদের নিরাপত্তা দেয়া না হলে কোনো গাড়ি চলবে না।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম বলেন, বাসের শ্রমিকরা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সড়ক অবরোধ করেছে। তাদের দাবি ঢাকায় তাদের ওপর হামলা হচ্ছে। গাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে। এর জন্য তারা নিরাপত্তা চায়।

উল্লেখ্য, রবিবার (২৯ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কলেজ ছুটির পর ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী এমইএস বাসস্ট্যান্ডে মিরপুর ফ্লাইওভারের মুখে দাঁড়িয়েছিল। এ সময় একটি বাস আরেকটি বাসকে আটকাতে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের ওপর উঠে যায়। এ সময় কেউ চাকার নিচে পিষ্ট হয় কেউ বা ধাক্কায় ছিটকে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মারা যায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া আক্তার মিম ও আব্দুল করিম।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ চতুর্থ দিনের মতো দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধে নেমেছেন।

অবরোধ থেকে শিক্ষার্থীরা নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগসহ সরকারের প্রতি ৯ দফা দাবি জানিয়েছেন। এসব দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ওয়ান স্টেপ অবরোধের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

দাবিগুলো হলো-

১. দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় দায়ী বেপরোয়া ড্রাইভারকে ফাঁসি দিতে হবে।

২. নৌ-পরিবহন মন্ত্রীকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে ও তাকে পদত্যাগ করতে হবে।

৩. শিক্ষার্থীদের চলাচলে এমইএস ফুটওভার ব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৩. প্রত্যেক সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্প্রিড ব্রেকার দিতে হবে।

৪. সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্র-ছাত্রীদের দায়ভর সরকারকে নিতে হবে।

৫. শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে- থামিয়ে তাদেরকে নিতে হবে।

৬. শুধু ঢাকা নয়, সারা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

এছাড়া ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল বন্ধ ও লাইসেন্স ছাড়া চালকরা গাড়ি চালাতে পারবেন না এবং বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া যাবে না।

ad