হবিগঞ্জে শিশুর ইজ্জতের মূল্য ২০ হাজার টাকা!

শিশুর ইজ্জতের মূল্য
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে এক লম্পট। পরে মেয়েটি অসুস্থ হলে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় কাউন্সিলর ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি রফাদফা করে।

বুধবার (১৬ মে) দুপুরে শিশুটি আরও অসুস্থ পড়ায় তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতে শিশুর পিতা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুনারুঘাট পৌর এলাকার নতুন বাজার প্রকাশিত পীরের বাজারে আশ্রয়ণ কেন্দ্রে থাকে হাজী ইয়াছির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর পরিবার। বাবা-মা দরিদ্র হওয়ায় মেয়েকে বাসস্থানে রেখে তারা গত ২ মে হাওর এলাকায় চলে যাণ কাজের সন্ধানে।

বিষয়টি জানতে পেরে একই এলাকার মৃত শিরু মিয়ার ছেলে উজ্জ্বল মিয়া (৩৭) ওই রাতে মেয়ের ঘরে প্রবেশ করে তাকে কৌশলে ঘুমের ওষুধ সেবন করিয়ে দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যে মেয়েটি ঘুমিয়ে পড়লে উজ্জ্বল মিয়া তাকে ধর্ষণ করে।

এভাবে পরপর দুইদিন ধর্ষণের কারণে রক্তক্ষরণে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। ফলে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। এই খবর পেয়ে মা-বাবাও বাসস্থানে চলে আসেন।

বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় কাউন্সিলর কাজল মিয়া সালিশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকায় রফাদফা করেন। কিন্তু মেয়েটির চিকিৎসা না হওয়ায় সে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে।

বিষয়টি জানতে পেরে বুধবার দুপুরে ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির সংগঠক অন্নিকা দাশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে যান। এই খবর জানতে পেরে চুনারুঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

চুনারুঘাট পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার কাজল মিয়া জানান, মেয়ের পরিবার দরিদ্র। মামলা দিয়ে তারা কোনো ফায়দা পাবে না। তাই মেয়ের চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আজমিরুজ্জামান জানান, পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে মেডিকেল করানোর জন্য হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।

তিনি বলেন, শিশুর পিতা বাদী হয়ে উজ্জলকে প্রধান আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ দ্রুত সময়ের মধ্যে বখাটে উজ্জলকে আটক করতে সক্ষম হবে।

ad