হাসনাত করিম মুক্ত

Jagoran- hasnat karim
ad

জাগরণ ডেস্ক: রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টসানে জঙ্গি হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার চার্জশিট থেকে নাম বাদ যাওয়ায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে জেল থেকে ছাড়া পেলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম।

বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) বিকাল সাড়ে চারটায় গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি জেল থেকে মুক্তি পান ব্রিটেন ও বাংলাদেশের এই দ্বৈত নাগরিক। জেল থেকে বেরিয়ে আসার সময় সেখানে তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

হাসনাতের কারামুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে হাই সিকিউরিটি জেলার বিকাশ রায়হান বলেন, হাসনাতকে অব্যাহতি দিয়ে আদালত থেকে যে নির্দেশনা এসেছে, তা যাচাই-বাছাই করার পর তাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় বন্দুকধারী জঙ্গিরা। ওই দিন রাতেই তাঁরা দেশি-বিদেশি মোট ২০ জনকে হত্যা করে। বিদেশি যাঁরা নিহত হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন জাপানের নাগরিক, আর্জেন্টিনার নাগরিক, ইতালির নাগরিক ও ভারতের নাগরিক।

সেদিনই উদ্ধার অভিযানের সময় বন্দুকধারীদের বোমার আঘাতে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। পরের দিন সকালে যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিহত হয় পাঁচ হামলাকারী। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেকজনের মৃত্যু হয়।

হামলার পরদিন সকালে হলি আর্টিজান বেকারি থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে তার জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত না হওয়ায় তার নাম এই অভিযোগপত্রে আসেনি বলে আগেই জানিয়েছিলেন তদন্ত সংস্থা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

দীর্ঘ ২ বছর ১ মাস ৯ দিনের মাথায় জেল থেকে ছাড়া পেলেন হাসনাত করিম। হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলায় অংশ নেওয়া জঙ্গিদের সঙ্গে হাসনাত করিমের ছবি এবং তার বিরুদ্ধে হিযুবত তাহরিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগের কারণেই দীর্ঘ কারাবাসে থাকতে হয়েছে তাকে।

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরিরের সঙ্গে সম্পৃক্তার যে অভিযোগ উঠেছিল, তারও কোনো সত্যতা পায়নি পুলিশ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও কয়েকটি গণমাধ্যমে তার হিযবুত কানেকশন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। এমনকি এজন্য তাকে বেসরকারি নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়। তবে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্র ঘেঁটে এরকম কোনো তথ্য পায়নি পুলিশের কর্মকর্তারা।

ad