যে কারণে পোড়ানো হচ্ছে অ্যামাজন

ব্রাজিলে আমাজনের জঙ্গলে হাজার হাজার জায়গায় আগুন জ্বলছে। গত এক দশকে এত ব্যাপক মাত্রায় সেখানে দাবানল সৃষ্টি হয়নি। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে উত্তরাঞ্চলে রোরাইমা, একার, রনডোনিয়া এবং আমাজোনা রাজ্যে, পাশাপাশি মাতো গ্রোসো ডো সুল এলাকাতে।

সোমবার ব্রাজিলের সাও-পাওলোতে বনের আগুনের ধোঁয়াতে দিনের বেলাতেই গোটা শহর ধোঁয়াতে অন্ধকার হয়ে যায়। আগুনটি লাগে আমাজোনাস ও রোনডোনিয়া বনাঞ্চলে। সেখান থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সাও-পাওলোতে বিকাল তিনটের পর থেকে প্রায় এক ঘন্টা গোটা শহরকে অন্ধকার করে দেয় ধোঁয়া।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে থাকা অক্সিজেনের ২০ শতাংশেরই উৎপত্তি অ্যামাজনে। গবেষকদের মতে এই বন প্রতিবছর ২০০ কোটি মেট্রিক টন কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে। সে কারণে একে ডাকা হয়ে থাকে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ নামে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হারকে ধীর করতে অ্যামাজনের ভূমিকাকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়।

 আইএনপি’র তথ্য অনুযায়ী বনটিতে প্রতি মিনিটে একটি ফুটবল মাঠের চেয়ে দেড় গুণেরও বড় এলাকা ধ্বংস হচ্ছে। ফিফার ফুটবল মাঠের মাপকে অনুসরণ করে হিসাব করলে, এই ধ্বংসের পরিমাণ প্রায় ১০,০০০ বর্গমিটার (৯,৬০০)।

সরকারি হিসাব বলছে এবছরের প্রথম আট মাসে ব্রাজিলের জঙ্গলে ৭৫ হাজারের বেশি দাবানল হয়েছে। ২০১৩ সালের পর এই সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। পুরো ২০১৮ সালে বনাঞ্চলে মোট আগুন লাগার সংখ্যা ছিল ৩৯,৭৫৯।

স্থানীয়রা বলছেন, কৃষকরা জমি সাফ করতে ইচ্ছে করেই অরণ্যে আগুন লাগিয়ে দেয়। বন পরিষ্কার করে এখানে তারা গবাদি পশু প্রতিপালনের জন্য চারণভূমি তৈরি করার জন্য এমনটা করে। দেশের প্রেসিডেন্ট এই ঘটনায় বলেছেন, আমাজন রেন ফরেস্টে দাবানলের ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবি সংস্থাগুলি দায়ি কারণ দেশের সরকার তাঁদের অনুদান কমিয়ে দিয়েছে। তাই তারা সরকারের না খারাপ করতে চাইছে।

আন্দোলনকারীরা বলছে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেয়ার বলসোনারোর পরিবেশ বিরোধী কথাবার্তা এভাবে জঙ্গল সাফ করার কাজকে আরো উৎসাহিত করেছে। তবে একটি তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আমাজনে এখন অবৈধ উপায়ে নজিরবিহীনভাবে সোনার খনির খোঁজ করছেন স্থানীয় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ।

হাজার হাজার অবৈধ খনির সন্ধানকারীরা সোনার খোঁজে খনন কাজ পরিচালনা করছেন। এ জন্য তারা আমাজনের গাছ কাটছেন ও নদী দূষণ এবং আদিবাসীদের জমি দখল করছেন। ব্রাজিলের ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো সরকারের সঙ্গে শিল্প কারখানা ও সোনার খনির সন্ধানকারীদের মিত্র সম্পর্ক রয়েছে। তিনি খনি খনন ও খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ আদিবাসীদের ভূমি আইনের মাধ্যমে উন্মুক্ত করে দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

মন্তব্য লিখুন :