কাশ্মীর: যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ভারত

মাস দুয়েক আগে কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে ভারত। এরপরই সেখানে জারি হয় জরুরি অবস্থা। ওইদিন থেকেই বন্ধ করে দেয়া হয় মোবাইল, ল্যান্ডলাইন ও ইন্টারনেট সংযোগ। এমনকি পরিবহনেও আরোপ করা হয় কড়াকড়ি। বিভিন্ন স্থাপনে বসানো হয় নিরাপত্তা চৌকি।

ফলে পুরো বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে কাশ্মীর। দোকানপাট না খোলায় স্তব্ধ হয়ে যায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। শুরুতে বিষয়টিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি যুক্তরাষ্ট্র। তবে সময়ের সাথে সাথে মুখ খুলতে শুরু করেছে তারা।

কাশ্মীরের যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে মোদি সরকারের সিদ্ধান্তে উপত্যকার বাসিন্দাদের জীবন 'বিধ্বস্ত' করে তুলেছে বলে মনে করছে মার্কিন কংগ্রেসের প্রভাবশালী কমিটি। তারা উপত্যকায় দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতকে অনুরোধ করেছে।

সোমবার টুইট করে মার্কিন কংগ্রেসের পররাষ্ট্র সংক্রান্ত কমিটি বলে, ভারতের এবার দেশের বাকি নাগরিকদের মতোই কাশ্মীরিদেরও সম-অধিকার ও মর্যাদা দেওয়া উচিত। সেইসাথে তারা কাশ্মীরে সাংবাদিকদের অবাধ বিচরণের ক্ষমতা দেওয়ার দাবি জানায়।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় যোগ দিতে যাওয়া প্রধানমন্ত্রী মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মার্কিন কংগ্রেস কমিটির এই আবেদনে চাঞ্চল্যছড়িয়েছে ভারতে। মনে করা হচ্ছে এই বক্তব্য ভারতের কূটনৈতিক ব্যর্থতা।

প্রসঙ্গত, নয়াদিল্লির তরফে যদিও জানানো হয়েছিল সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই কাশ্মীরের প্রায় সব এলাকার উপরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। গুজব ও হিংসা ছড়ানো রুখতে মোবাইল ও ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও ল্যান্ডলাইন ফোন চালু রয়েছে। তবে কার্যত সব ধরনের যোগাযোগই বন্ধ। এ কারণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মার্কিন কংগ্রেস।

মন্তব্য লিখুন :