নন্দীগ্রামে মমতার ঐতিহাসিক জয়

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বড় ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর অবশেষে নন্দীগ্রামেও জয় পেলেন মমতা বন্দ্যাপাধ্যায়।

সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, ১২০১ ভোটে নন্দীগ্রামে জিতেছেন মমতা।

এর আগে ১৬তম রাউন্ডের গণনা শেষে ৬ ভোটে এগিয়ে তৃণমূল শিবিরে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছিলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে সারাদিন ধরে অনিশ্চয়তা ছিল জয়টা তৃণমূল ছেঁড়ে যাওয়া শুভেন্দু পাবেন নাকি দলনেত্রী মমতা। একবার শুভেন্দ এগিয়ে যাচ্ছিলেন, পরক্ষণেই আবার মমতার এগিয়ে যাওয়ার খবর আসছিল। অবশেষে ভোট গণনার পর জানা গেল, ১২০১ ভোটের ব্যবধানে শুভেন্দু অধিকারীকে পরাজিত করেছেন মমতা বন্দ্যাপাধ্যায়।

গত বছর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু। তারপর লাগাতার মমতা ও তার ভাইয়ের ছেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়ে যান তিনি। সেই তুলনায় তৃণমূল অনেকটাই স্তিমিত ছিল। তবে অধিকারীদের সঙ্গে সম্পর্কের শেষ পেরেক পোতেন মমতাই। নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন, সেখান থেকেই ভোটে লড়বেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয়বারের মতো সরকার গড়তে যাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯২টি আসনের ভোট গণনায় দেখা গেছে ২০৭ টিতে এগিয়ে আছে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী।

মুখ্যমন্ত্রী মমতার প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু তারই একসময়ের ডান হাত, মন্ত্রিসভার সাবেক সদস্য। তিনি গত ডিসেম্বরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। গত ১ এপ্রিল নন্দীগ্রামে ভোট হয়। এই দফার ভোটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল নন্দীগ্রাম।

নির্বাচনের পর বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছিলেন মমতা ও শুভেন্দু। মমতা বলেছিলেন, তিনি নিশ্চিত, এই আসনে ৯০ শতাংশ ভোট পেয়ে তিনিই জিতবেন। অন্যদিকে, শুভেন্দু বলেছিলেন, তিনি  মমতাকে অর্ধলক্ষ ভোটের ব্যবধানে মমতাকে হারাবেন।

এক সময় মমতার ‘লেফটেনেন্ট’ হিসেবে পরিচিত শুভেন্দু এবারই প্রথম পদ্মফুল নিয়ে লড়েন। ২০১৬ সালে এ আসনে ঘাসফুলের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হওয়া শুভেন্দু গতবছর ডিসেম্বরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন।

মমতার সরকারে পরিবহন ও পরিবেশ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি লোকসভায় তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব করা শুভেন্দু ১৯৯৫ সালে কংগ্রেসের হয়ে কাউন্সিলর নির্বাচনে জেতেন। নন্দীগ্রামে তার ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রভাব সুবিদিত ছিল।

এবার ভোটের আগে মমতাকে হারানোর ‘চ্যালেঞ্জ’ দিয়েছিলেন শুভেন্দু। তৃণমূলনেত্রী কলকাতায় নিজের আসন ছেড়ে নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে সে চ্যালেঞ্জ গ্রহণও করেন।

নন্দীগ্রামের মুকুট উঠেছে মমতার মাথায়। শেষ হাসি হেসেছেন তৃণমূল নেত্রী।