বিশ্বে একদিনে কমেছে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু

বিশ্বজুড়ে চলমান করোনা মহামারিতে প্রতিদিনই ওঠা-নামা করছে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে করোনায় দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা আরো কমেছে। একইসঙ্গে কমেছে আগের দিনের তুলনায় নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও।


এ সময়ের মধ্যে সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন প্রায় ১৩’শ মানুষ। এবং ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ৭ লাখ ১৮ হাজারে। এতে এ পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৫৫ কোটি ৩৪ লাখ ৭০ হাজার ১৩৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৬৩ লাখ ৫৯ হাজার ৭৯০ জনের।


এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ফ্রান্সে। অন্যদিকে দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ব্রাজিল।


শনিবার (২ জুলাই) সকালে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত, মৃত্যু ও সুস্থতার নিয়মিত আপডেট দেয়া ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।


ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭ লাখ ১৭ হাজার ৯১৭ জন আর কোভিডজনিত অসুস্থতায় মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৩৩৭ জনের। এছাড়া এই দিন কোভিড থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৪ লাখ ৫ হাজার ৯৫২ জন।


ওয়েবসাইটটির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ফ্রান্সে। দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৬ জন এবং কোভিডজনিত অসুস্থতায় মারা গেছেন ৫২ জন।


অন্যদিকে, দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ব্রাজিল। লাতিন আমেরিকার এই দেশটি করোনায় আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় ও মৃত্যুর সংখ্যায় তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৯৮ জনের এবং দেশটিতে করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৭৫ হাজার ৭৪৯ জন।


ফ্রান্স ও ব্রাজিল ব্যতীত বিশ্বের আরো যেসব দেশে করোনা সংক্রমণ-মৃত্যুতে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে সেসব হলো— যুক্তরাষ্ট্র (নতুন আক্রান্ত ১ লাখ ২ হাজার ৫৪৯ জন, মৃত ২৮১ জন), ইতালি (নতুন আক্রান্ত ৮৬ হাজার ৩৩৪ জন, মৃত ৭২ জন), তাইওয়ান (মৃত ১২১ জন, নতুন আক্রান্ত ৩৫ হাজার ৮০০ জন) যুক্তরাজ্য (মৃত ৮৭ জন, নতুন আক্রান্ত ২০ হাজার ৭২০ জন), স্পেন (মৃত ৬৯ জন, নতুন আক্রান্ত ২৮ হাজার ৪৮ জন) এবং অস্ট্রেলিয়া (নতুন আক্রান্ত ৩৪ হাজার ৯২৭ জন, মৃত ৩৩ জন)।


বিশ্বে বর্তমানে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৮৮ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮৭ জন। এই রোগীদের মধ্যে করোনার মৃদু উপসর্গ বহন করছেন ১ কোটি ৮৭ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৩ জন এবং গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন ৩৬ হাজার ৮৯৪ জন।


উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ২০২০ সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে সংস্থাটি।