পশ্চিমাদের কাছে আরও অস্ত্রের সহায়তা চাইলো ইউক্রেন

রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পশ্চিমা দেশগুলোকে আরও অস্ত্র সরবরাহ করার আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রি কুলেবা। সোমবার ( ১৯ সেপ্টেম্বর) দিমিত্রি কুলেবা এ আহ্বান জানান।


ব্লুমবার্গ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে দিমিত্রি কুলেবা বলেন, ইউক্রেন রাশিয়ার গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আগ্রাসনকে প্রত্যাখ্যান করছে। এসময় তিনি সম্প্রতি বিভিন্ন অঞ্চল পুনর্দখলের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণ ‘সকলের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে তারা কাজ করছেন’। তিনি আরও বলেন, ‘ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করার অর্থ হবে আমরা প্রেসিডেন্ট পুতিন ও তার সেনাবাহিনীকে আমাদের ভূখণ্ডে পরাজিত করতে পারি’। কুলেবা নিউইয়র্কে এসব কথা বলছিলেন যেখানে তিনি জাতিসংঘের বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশ নেবেন।

দিমিত্রি কুলেবা বলেন, সম্প্রতি পাল্টা আক্রমণ ছিল ‘পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিকল্পিত ও সুচিন্তিত সামরিক অভিযান’।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট পুতিন খুব সম্ভবত নভেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া শস্য রপ্তানি চুক্তি রোধ করার চেষ্টা করবেন। তবে ইউক্রেন চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য রাশিয়ার ওপর চাপ প্রয়োগে এশিয়ান ও আফ্রিকান দেশগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

গত সপ্তাহে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ইউক্রেনকে আমেরিকান মজুদ থেকে আরও ৬০০ মিলিয়নের মতো অস্ত্র দেওয়া হবে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে ইউক্রেনকে।

ইউক্রেনের সম্প্রতি যুদ্ধক্ষেত্রের সাফল্যের কারণে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে বিধ্বংসী ট্যাংকের মতো ভারি অস্ত্র পাঠানোর জন্য আহ্বান করা হচ্ছে যদিও তারা এখনো তা সরবরাহ করতে অস্বীকার করছে।

সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেন, তাদের সৈন্যরা আট হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা রাশিয়ার কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করেছে। মূলত খারকিভ অঞ্চলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। খারকিভ অঞ্চলে লজিস্টিক হাব হিসেবে ব্যবহার করা ওই শহর থেকে হাজার হাজার রুশ সেনা পালিয়েছে, এমন দাবি করছে ইউক্রেন। শহরটি থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধারের দাবিও জানায় ইউক্রেনের সেনারা।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আগ্রাসন চালায় রাশিয়া। রাশিয়া এখনো দেশের প্রায় এক পঞ্চমাংশ দখল করে আছে দেশটির। কিন্তু বিশ্লেষকদের অনেকেই রুশ সেনাদের পশ্চাদপসরণকে ইউক্রেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করছেন।