মোরেলগঞ্জে ধানের পরিবর্তে ভুট্টা চাষে লাভবান কৃষকরা

ধানের বাজারে দাম পাচ্ছে না চাষিরা। তাই বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ধানের পরিবর্তে ভুট্টা চাষ বাড়ছে। এতে লাভও হচ্ছে দ্বিগুণ। যে কারণে এ উপজেলায় ভুট্টা চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন।

জানা গেছে, উপজেলার বলইবুনিয়া ইউনিয়নের কিসমতজামুয়া গ্রামের চাষি শাহ আলম খান ৯৯ শতক জমিতে ভুট্টার আবাদ করেন। জমিতে নিজ শ্রম দিয়ে তার খরচ হয়েছে ৮ হাজার টাকা।

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভুট্টা চাষের জন্য মোরেলগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে বিনামূল্যে সার ও বীজ সহায়তা পেয়েছেন। অগ্রহায়ন মাসে আবাদ করে বৈশাখ মাসের শেষ দিকে ফসলের কর্তন ও বিক্রি শুরু করেন তিনি। এক একটি ভুট্টার মোচা পাইকারী ৫ টাকা ও খুচরা ১০ টাকায় বিক্রি হয়।

এ বছরে তার জমিতে সাড়ে ১৩ হাজার মোচা উৎপাদিত হয়েছে। যার পাইকারী মূল্য হবে ৬৭ হাঁজার ৫০০ টাকা।  মণ দরে ৯০০ টাকা। একই জমিতে ধান চাষ করলে তিনি পেতেন ৪০ মণ ধান যার বর্তমান বাজার দর সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা।

চাষী আব্দুল বারেক শেখ জানান, তিনি ৬৬ শতক জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। এতে তিনি পাবেন ২৫-২৬ মণ ভুট্টা। সেখানে ধান চাষ করলে পেতেন ১৫-১৬ মণ।

চাষী হারুন অর রশিদ ৩৩ শতক জমিতে ভুট্টা চাষ করে ৫ হাজার ৭০০ মোচা উৎপাদন করেছেন। বাজারে যার খুচরা মূল্য হবে ২৮ হাজার ৫০০ টাকা।

চাষী শাহ আলম খান জানান, ধানের চেয়ে ভুট্টায় বেশি লাভবান হওয়া যায়। দামও ধানের চেয়ে দ্বিগুণ। তাই ধানের পরিবর্তে ভুট্টা চাষ করেছেন তিনি।

ভুট্টা চাষে উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মেজবাহ আহম্মেদ ও বলইবুনিয়া ব্লকের দায়িত্বে নিয়োজিত উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের পরামর্শ ও সার্বক্ষণিক সহযোগিতা পেয়েছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সিফাত আল মারুফ জানান, তাপমাত্রা যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে সেক্ষেত্রে ধানের চেয়ে ভুট্টা চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা বেশি। তাছাড়া ধানের চেয়ে ভুট্টার দামও দ্বিগুন। তাই চাষিরা ভুট্টা চাষে বেশি আগ্রহী হচ্ছে।