ডোমার আলুবীজ খামারে ব্লাষ্ট রোগে ২ একর জমির ধান নষ্ট

নীলফামারীর ডোমারে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) বোরো ধানবীজ কর্মসূচীতে ৮০ একর জমিতে ধানের বাপ্পার ফলন হলেও দায়িত্বে অবহেলার কারণে সি ব্লকের প্রায় দুই একর জমির ধান ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। তাছাড়া সি ব্লকের প্রদর্শনী প্লেটে ১৫ একর জমিতে ধানবীজ আবাদের কথা লিখা থাকলে শুধু ১০ একর জমিতে ধানবীজ আবাদ করা হয়েছে।

চলতি ইরি মৌসুমে ডোমার আলু ভিত্তিবীজ উৎপাদন খামারে ১২০ মেট্রিকটন উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করে ৮০ একর জমিতে (৬০ একর ২৮ ও ২০ একর ২৯ ধানবীজ) ধানের চাষ করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডোমার কৃষি ফার্মের সি ব্লকে শ্রমিকরা ধান কর্তন ও মাড়াইয়ের কাজ করছে। কম্পাইন্ড হারভেস্টর মেশিনে ধান কর্তন ও মাড়াইয়ে কর্মরত শ্রমিকরা ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত বীজধান ক্ষেত হতে সংগ্রহ করেছে। ধানবীজ সংগ্রহের বিষয়ে হারভেস্টর মেশিনের ড্রাইভার মোমিনুর রহমানকে জিজ্ঞেসা করলে তিনি বলেন, সংগ্রহিত ধান, বীজ হিসেবে ব্যবহার করা হবে না। এইসব ধান পুরোটাই সীট হিসেবে কেজি দরে বিক্রয় করা হবে।

সি ব্লকের দায়িত্বরত এডি রতন রায় ধানে ব্লাষ্ট রোগের আক্রমণের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আবহাওয়ার কারণে ব্লাষ্ট রোগ আক্রমণ করেছে। তবে বীজ হিসেবে এই ধানগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে।

কৃষি ফার্মের ভারপ্রাপ্ত উপ পরিচালক আতাউর রহমান জানান, আবহাওয়া ভালো না থাকায় সি ব্লকে ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়। প্রতিনিয়ত বৃষ্টির কারণে ছত্রাকনাশক ঔষধ স্প্রে করা যায়নি বিধায় সি ব্লকে প্রায় ২ একর জমির ব্রি ধান-২৮ চিঠা হয়েছে।

সাধারন কৃষক অপেক্ষা আপনাদের বীজ ধানে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নেরে জবাবে তিনি বলেন, সাধারণ কৃষক প্রতি একরে যে পরিমাণ ব্যয় করেন আমরা সেই তুলনায় কম বরাদ্দ পাই।

ডোমার ভিত্তিবীজ আলু উৎপাদন খামারের উপপরিচালক এনামুল হক বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় ব্লাষ্ট রোগ আক্রমণ করেছে। ধানের উৎপাদিত ব্যয় কত প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, টেন্ডারে ধান বিক্রি না করা পর্যন্ত কোনো কিছু বলা সম্ভব নয়।