আমতলীতে ছাদ কৃষিতে চমক

বরগুনার আমতলী পৌর শহরে ছাদ কৃষিতে সফলতা পেয়েছে কৃষকরা। গত চার বছরে পৌর শহরে শতাধিক কৃষক ছাদে বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও সবজি গাছের চারা রোপন করেছেন। দিন দিন ছাদ কৃষির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু ছাদ কৃষিতে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির ব্যবহার নেই। প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির সহায়তা পেলে ছাদ কৃষির প্রসারতা বৃদ্ধি পাবে বলে জানান কৃষিবিদরা।
 
জানাগেছে, ২০১৫ সালে উপজেলা আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম শাহজাদা আকন তার বাড়ির দ্বিতল ভবনের ছাদে প্রথম ছাদ কৃষি গড়ে তোলেন। এতে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেন তিনি। তার সফলতা দেখে আমতলী পৌর শহরে গত চার বছরে শতাধিক কৃষক ছাদে মাদা তৈরি করে বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও সবজি গাছের চারা রোপন করেছেন। এতে তারা ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন। ফলে দিন দিন ছাদ কৃষির প্রসারতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রেজউল করিম শাহজাদা আকন প্রথমে ৫ টি ড্রামে ফুলের চারা দিয়ে পরীক্ষামূলক ছাদ কৃষি শুরু করে। পরীক্ষামূলক শুরু হলেও ফুলের চারার ভালো দেখে পুরে ছাদে বাগান তৈরির পরিকল্পনা নেয়। কৃষকরা বাগানে আম, কমলা, কামরাঙ্গা, ডালিম, ছবেদা, চাইনিচ কমলা, লেবু, জলপাই, পেয়ারা, বড়ই, মালটা ও আমড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলের গাছ রোপন করেছেন। ছাদ কৃষিতে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি প্রযুক্তির ব্যবহার নেই বলে জানান কৃষকরা। প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির সহায়তা পেলে ছাদ কৃষির প্রসারতা বৃদ্ধি পাবে বলে জানান কৃষিবিদরা।
 
মঙ্গলবার আমতলী পৌর শহরের শাহজাদা আকন, কামাল শিকদার, পরান পাল,মতিউর রহমান, সুমাইয়া কমপ্লেক্স, গৌতম কর্মকার, সিরাজ উদ্দিন, স্বপন হাওলাদার, গাজী মোজাম্মেল, ব্যাংকার রাসেল, মিল্টন খান, সোহেল হোমিও হল, হারুন অর রশিদ হাওলাদার ও  শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন, রেজাউল করিম বাদল, সুমন হাওলাদার, জাহিদ হোসাইন খোকন, সৈকত ইসলাম দারুল ও পূর্ব চন্দ্র সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, ছাদের উপরে সারিবদ্ধভাবে মাদা তৈরি ড্রাম। প্রতিটি মাদায় একটি করে ফলদ, বনজ ও সবজি গাছ লাগানো। গাছে ফল ধরেছে। আমড়া গাছে থোকায় থোকায় আমড়া ঝুলছে। মালটা গাছে মালটা, কমলা গাছে কমলা, লেবু গাছে লেবু, কামরাঙ্গা গাছে কামরাঙ্গা ধরেছে। এছাড়া  গোলাপ, গান্ধা, জুই, চামেলিসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের গাছ রয়েছে। ফুলের পাশাপাশি রয়েছে সবজি গাছ লাউ , পুঁই শাক ও বেগুন প্রভৃতি।  কৃষকদের ছাদে বিভিন্ন প্রজাতির ফল, ফুল ও সবজির ছোট বড় মাদা রয়েছে।

ছাদ কৃষক ব্যাংকার রাসেল হোসেন বলেন, গত দুই বছর পূর্বে ছাদে কৃষি আবাদ করি। প্রথমে শখের বসে করলেও এখন পুষ্টিকর ও মান সম্মত খাবারের জন্য ফলদ ও সবজি চাষ করছি। আমার ছাদের বাগানে মিষ্টি জলপাই, লিচু, আমরুল, ছফেদা, নাগপুরি কমলা ও থাই কমলার ফলন ভালো হয়েছে। এ ছাড়া সবজিও ভালো হয়।



ছাদ কৃষক আতিকুর রহমান বলেন, শখের বসে মেহেদি, লেবু ও পেয়ারা গাছ লাগিয়েছি। ভালোই হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক ও ছাদ কৃষক রেজাউল করিম শাহজাদা আকন বলেন, ২০১৫ সালে আমার মেয়ে রাদিয়া জাহান প্রান্তির উৎসাহে প্রথম কয়েকটি ফুলের চারা দিয়ে ছাদ কৃষি শুরু করি। গাছের চারার অবস্থা ভালো দেখে উৎসাহ আরো বেড়ে যায়। পরে একএক করে আমড়া, কমলা, ছবেদা, কামরাঙ্গাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ গাছ রোপন করি। বর্তমানে বিভিন্ন ফলদ গাছে ফল ধরেছে। আমার পাশাপাশি এ ছাদ কৃষি গাছের পরিচর্যা করছেন আমার স্ত্রী নাজমুন নাহার।

উপ সহকারী কৃষি অফিসার আবুল ছালেহ বলেন, ছাদ কৃষিতে উৎপাদিত ফসল যেমন বিষমুক্ত তেমনি প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মনোমুগ্ধকর। তিনি আরো বলেন, গত চার বছরে পৌর শহরে শতাধিক লোক ছাদ কৃষি করেছে।

আমতলী উপজেলা কৃষি অফিসার সিম রেজাউল করিম বলেন, শহরের বসবাসরত মানুষ তাদের ভবনের ছাদে স্বল্প পরিসরে ফল ও সবজি উৎপাদন করে প্রতিদিন বিষমুক্ত ও নিরাপদ ফল ও সবজি খেতে পারে। এতে একাধারে যেমন দেশে উৎপাদন বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে তেমনি নিজেরা নিজেদের চাহিদা পূরণ করতে পারে। মানুষ ছাদ কৃষিতে এগিয়ে আসলে কৃষি সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করি। তিনি আরো বলেন, ছাদ কৃষি বিস্তারের জন্য কারিগরি ও প্রযুক্তির সহায়তার অভাব রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।