করোনা: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তরমুজের বাম্পার ফলন, বিপাকে চাষিরা

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বাগেরহাটসহ ১০ জেলার তরমুজের বাম্পার ফলন। কিন্তু করোনার কারণে বাজারে ক্রেতা নেই। তাই তরমুজ নিতেও আসে না ব্যাপারীরা। মাঠেই নষ্ট হচ্ছে বহু কষ্টে আর অনেক টাকায় ফলানো তরমুজ। ফলে বিপাকে পরেছেন চাষিরা। প্রাণঘাতী করোনার কারণে এ ভয়াবহ ধাক্কা ও বিপর্যয় কিভাবে কাটাবেন তা জানেন না দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বাগেরহাটের চাষিরা।

জানা যায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দেশে চলমান করোনা পরিস্থতিতে বাংলাদেশ তৃতীয় ধাপে অবস্থান করায় করোনা সংক্রমণ মোকাবেলায় স্থানীয় হাটবাজার বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। বাগেরহাট জেলায় তরমুজ চাষ করে চাষিরা ব্যাপক ফলন পাওয়ায় তাদের মাঝে তরমুজ চাষের আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে নতুন চাষিরাও আগ্রহী হয়ে উঠছে। কিন্তু দেশের এ করোনা পরিস্থিতিতে তরমুজ বিক্রি করতে না পারায় মাঠেই নষ্ট হচ্ছে বহু কষ্টে আর অনেক টাকায় ফলানো তরমুজ।

কৃষকরা বেশি লাভের আশায় ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দ্বিগুণ হারে তরমুজের চাষাবাদ করেছেন। শেষ পর্যন্ত করোনার কারণে খরচের টাকার অর্ধেকটাই ওঠে কিনা, তা নিয়ে চিন্তিত তারা।

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ বাজারের ফল ব্যবসায়ী দেলোয়ার শেখ জানায়, করোনাভাইরাসে বাজার বন্ধ থাকায় তরমুজ বিক্রি করতে পারছি না। বিপাকের মধ্যে পরেছি। এই ভাইরাসের কারণে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে না। ফলে মহাজন আমাদের মজুরি দিতে পারছেন না। কতদিন এমন অবস্থা চলবে বুঝতেও পারছি না।

ধানখালী ইউনিয়নে পাঁচজুনিয়া গ্রামের তরমুজ চাষিরা বলেন, 'মাঘ মাসের শুরুতে তরমুজ চারা রোপণ করি কিন্তু মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় তরমুজ চারা নষ্ট হয়ে যায়। আবার চারা রোপণ করি। আর পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে ক্ষেত থেকে তরমুজ তুলতে হবে। কিন্তু দেশের যে অবস্থা তাতে তরমুজ বিক্রি করতে পারি কি না, তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ভালো জানেন। এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে তরমুজ চাষ করছি। এখন বিক্রি করতে না পারলে রাস্তায় বসা ছাড়া কোন উপায় দেখি না।'

বাগেরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক রঘুনাথ কর জানান, করোনার কারণে তরমুজ চাষিরা বড় ধরনের বিপাকে পড়েছেন। তাদের ক্ষেতে উৎপাদিত তরমুজ পাকলেও বাজারজাত করতে পারছেন না। মৌসুমের শুরুতে বুলবুলের কারণে কৃষকের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। এখন আবার করোনার কারণে বড় ধরনের লোকসানের মুখে তারা। 

তাদেরকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে যে প্রতিদিন ক্ষেতে পানি দিলে তরমুজ কম পাকে। পানি দেয়া বন্ধ করলে অল্পতে তরমুজ পেকে যাবে। ১১ তারিখ পর্যন্ত লোকজন বাজারে আসতে পারবে না। দেখা যাক তারপর পরিস্থিতি কী হয়।