লাফিয়ে বাড়ছে চালের দাম

এবার ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় দফায় দফায় বেড়ে চলেছে সব ধরনের চালের দাম। বেঁচে থাকার জন্য জরুরি এ খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতারা। চালের বাজারের এ অস্থিরতা রোধে বাজার নিয়ন্ত্রণে মিল মালিকদের ওপর নজরদারিতে গুরুত্বারোপ করেছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

গত এক মাসে প্রতি কেজি চালের দাম পাইকারি ও খুচরা বাজারে ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে মিনিকেট চালের দাম। আর মোটা চাল কেজিতে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে চালের এ দাম বৃদ্ধিকে স্বাভাবিক মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রতি বছর এসময় বিশেষ করে জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে ধানের সরবরাহ কম থাকে। তাই সব ধরনের চালের দাম বেড়ে যায়। আবার এপ্রিলে যখন নতুন ধান আসে তখন আগের দামে ফিরে আসে। তবে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় পেছনে যদি এর বাইরে অন্য কোনো কারণ থাকে সেটা মিল মালিকরাই বলতে পারবেন বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে  জাত ও মানভেদে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৫ টাকায়, মিনিকেট (উত্তম) বিক্রি হচ্ছে ৫৬ থেকে ৬০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪৮ থেকে ৫৫ টাকা। নাজিরশাইল প্রতিকেজি ৬০ থেকে ৬২ টাকা, সাধারণ ৫৪ থেকে ৫৮ টাকায়, মাঝারিমানের পাইজাম ও লতা ৪২-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা আগে বিক্রি হতো ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। মোটা স্বর্ণা ও ইরি চাল ৩২-৩৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৩২-৩৫ টাকা।

পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট মানভেদে ৫০ টাকা। যা গত মাসে বিক্রি হয়েছিল ৪৫ টাকা, আর গত সপ্তাহে ৪৮ টাকা। নাজিরশাইল ৪৭ থেকে ৫১ টাকা। গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৪৭ থেকে ৪৯ টাকা। গত সপ্তাহে ২৮ চাল প্রতিকেজি ৩২ থেকে ৩৪ টাকা বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে বেড়ে ৩৬ থেকে ৩৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইজাম ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোটা স্বর্ণা প্রতিকেজি ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ২৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে মিলগেইটে গত দুই সপ্তাহে চালের দাম কেজিতে ২ টাকা বেড়েছে। প্রতিকেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৯ টাকা, যা আগেছিল ৪৭ টাকা। নাজিরশাইল প্রতিকেজি ৪৬ টাকা থেকে বেড়ে ৪৮ টাকা। ২৮ প্রতিকেজি ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইজাম প্রতি কেজি ২৮ টাকা থেকে বেড়ে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্বর্ণা প্রতি কেজি ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ২৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রপ্তানির অনুমোদন দেওয়ার পর চালের দাম এক দফা বেড়েছিল। গত ৩১ জানুয়ারি চালের রপ্তানি মূল্যের ওপরে ১৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার পর দাম ফের বাড়তে শুরু করে। চলতি সপ্তাহে চালের দাম আবারো আরেক দফা বেড়েছে। মূলত রপ্তানির অনুমতি নিতে আসা প্রতিষ্ঠানগুলো সরু ও সুগন্ধী চাল রপ্তানির অনুমোদন চেয়েছে। তাই চাল রপ্তানি শুরু হলে দাম আরো বেড়ে যেতে পারে। এতে দাম হাতের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ারও ঝুঁকি আছে। এ পরিস্থিতিতে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে চাল রপ্তানির ব্যাপারে আপত্তি তোলা হয়। এ কারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আপাতত রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া থেকে বিরত রয়েছে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, গত এক মাসে শুধু সরু চালের দামই ৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। সাধারণমানের নাজির ও মিনিকেট কেজি ৫০-৫২ টাকা, উত্তমমানের নাজির ও মিনিকেট ৫৫-৬০ টাকা, মাঝারি চাল ৪২-৫০, পাইজাম ও লতা (সাধারণ মানের) ৪২-৪৫, পাইজাম ও লতা (উত্তমমানের) ৪৬-৫০ এবং স্বর্ণা ও চায়না ইরিখ্যাত মোটা চাল ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, সরকারি গুদামে বর্তমানে ১৩ লাখ ৬৫ হাজার টন চাল মজুদ আছে।