ভারতের ঘোষণার পর লাফিয়ে কমছে পেঁয়াজের দাম

ভারত পেঁয়াজ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এই খবরে বাংলাদেশের পাইকারি বাজারে কমে গেছে পণ্যটির দাম। তিন দিন আগেও পাইকারি বাজারে দেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজের দর কেজি ৮০ টাকার আশপাশে ছিল, গতকাল বৃহস্পতিবার তা ৫৫ টাকায় নামে। একইভাবে কমেছে অন্যান্য পেঁয়াজের দামও।

ভারত রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে বাজারে দাম কমে যাওয়া এবং ভালো ফলন হওয়ায়। দেশটির খাদ্য ও ভোক্তাবিষয়ক মন্ত্রী রাম বিলাস পাসওয়ান গত বুধবার এ কথা জানান।

প্রায় ছয় মাস পর এই নিষেধাজ্ঞা তুললো দেশটি। তবে এই খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন দেশের পেঁয়াজ চাষিরা। ভালো দাম পাওয়ার আশায় অতীতের যে কোনও সময়ের চেয়ে এবার বেশি পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন তারা। অনেকের পেঁযাজ এখনও মাঠে রয়েছে, আবার অনেকের পেঁয়াজ বাজারে উঠেছে।

তাদের আশঙ্কা, ভারত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ফলে এখন ব্যাপক পরিমাণ পেঁয়াজ দেশের বাজারে প্রবেশ করবে। ফলে তারা তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যয্য দাম থেকে বঞ্চিত হবেন। লোকসানের মুখোমুখি হবেন তারা। এ কারণে অন্তত আরও ২/৩ মাস পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি না দেওয়ার দাবি তাদের। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের একাধিক পেঁয়াজ চাষীর সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।

নিজেদের বাজার সামাল দিতে ভারত গত ২৯ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করে। এরপরই বাংলাদেশের বাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়তে থাকে। সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের মানুষকে অত্যন্ত চড়া দামে পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে। একসময় দেশি পেঁয়াজের কেজি ২৫০ টাকায় ওঠে, যা স্মরণকালের মধ্যে সর্বোচ্চ।

শ্যামবাজারের আমদানিকারক হাজী আবদুল মজিদ বলেন, ‘ভারতীয় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ফলে আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবো। কারণ ভারতের বিকল্প হিসেবে মিয়ানমার, মিসর, তুরস্ক, পাকিস্তান থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ এখনও রয়েছে আমাদের গুদামে। ভারতীয় পেঁয়াজ আসা শুরু করলে এগুলো কে কিনবে? এ অবস্থায় আমাদের দিকটি সরকারের বিবেচনা করা উচিত।’

এদিকে রাজধানীর কাওরান বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ফলে ভারতীয় পেঁয়াজ আসতে শুরু করলে দাম কমে যাবে। তবে সেটি যদি অতি মাত্রায় কমে যায় তাহলে উৎপাদনকারী কৃষক, আমদানিকারক সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

গতকাল ঢাকার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকা, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১০০ থেকে ১২০ টাকা ও তুরস্কের পেঁয়াজ ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়। সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, গত বছরের এ সময়ের তুলনায় পেঁয়াজের দাম এখন ২৭৮ শতাংশ বেশি।

পাইকারি বাজারে ভারতের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তোলার সিদ্ধান্তের খবর আসে গতকাল সকালে। এরপরই দাম কমতে শুরু করে। খুচরা বাজারে এর প্রভাব অবশ্য ততটা পড়েনি।