আবারও বেড়েছে চালের দাম

দেশের নিয়ন্ত্রণহীন চালের বাজারে লাগাম টানতে আমদানির অনুমতি দিয়েছিল সরকার। এতে কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা কমে দাম। কিন্তু কয়েকদিনের ব্যবধানে ফের কেজিতে এক টাকা বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম।  

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানা গেছে, এ পর্যন্ত ৭ দফায় মোট সাড়ে ১৬ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ ও আতপ চাল আমদানির জন্য চার শতাধিক ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তাদের আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চাল আমদানি করে তা বাজারে বিক্রি করতে হবে।

সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরায় জাত ও মানভেদে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬২ টাকায়, নাজিরশাইল ৬০ থেকে ৬৪ টাকা, পাইজাম ৪৬ থেকে ৪৮ ও লতা ৫৫-৫৬ টাকা। এছাড়া বিরি-২৮ চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকা এবং স্বর্ণা ৪১ থেকে ৪৩ টাকায়। এসব চাল একদিন আগেও এক টাকা কমে বিক্রি হয়েছে। আর ১৫ আগে ৩ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়েছিল।

পাইকারী বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট মানভেদে ৫৩, ৫৬,৫৯ টাকা। যা একদিন আগেও বিক্রি হয়েছে ৫২,৫৫,৫৮ টাকা। আর গত ১৫ দিন আগেছিলো ৫৫, ৫৮, ৬১ টাকা। নাজিরশাইল ৫৭, ৬০ ও ৬২ টাকা। একদিন আগে এক টাকা কমে বিক্রি হয়েছে। আর ১৫ দিন আগে ছিল ৬০, ৬৩, ৬৫ টাকা। ২৮ চাল প্রতিকেজি ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা, হাস্কী নাজির ৪৬, ৪৭, ৫০ টাকা। কাজল লতা ৫২ থেকে ৫৩ টাকা। পাইজাম ৪৩ থেকে ৪৪ টাকা। যা একদিন আগে বিক্রি হয়েছে এক টাকা কমে। ১৫ দিন আগে ছিলে এর থেকেও কেজিতে ৩ টাকা বেশি।

জানা গেছে, এ বছর বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন পেয়েছেন কৃষক। আনুমানিক প্রায় দুই কোটি টনেরও বেশি ধান কাটা হয়েছে। তবুও চালের দাম কমেনি। বোরো মৌসুমের আগে সরকারের মজুত সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছানোর নতুন রেকর্ড তৈরি হয়। এর ফলশ্রুতিতে প্রতি কেজি মোটা চালের দাম বেড়ে ৫২ টাকা হয়ে যায়।

বাবুবাজার চাল ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন বলেন, আমদানির খবরে চালের দাম বস্তায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কমেছে। তবে আমদানির আবেদনের তারিখ শেষ হয়েছে ২৫ আগস্ট। এরপর আর কোন আবেদন দেওয়া হয়নি। ফলে ব্যবসায়ীরা ভেবেছে আর চাল আমদানি করা হবে না। এছাড়া আমদানিকৃত চাল একটু ধীরগতিতে বাজারে প্রবেশ করেছে। এই আমদানি করা চাল যখন পুরোপুরি বাজারে চলে আসবে তখন দাম আরও কমে যাবে।  

বাবুবাজারের পাইকারী আড়তের রশিদ রাইস এজেন্সির আব্দুল রশিদ বাংলানিউজকে বলেন, এখন চালের ভরা মৌসুমে দাম বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই। তারপরও দাম বাড়ছে। মূলত অসাধু ব্যবসায়ী ও মিলাররা কারসাজি করে চালের দাম বাড়িয়েছে। তারা ধান কিনে মজুদ করে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকার যখন চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে তখন চালের দাম প্রকার ভেদে বস্তায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কমিয়ে দেয়। এখন এলসি করার তারিখ শেষ হওয়ায় আজ (৩০ আগস্ট) আবার চালের দাম বস্তায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে কেজিতে ২/৩ টাকা কমলেও ১৫ দিনের ব্যবধানে চালের দাম আবার ১ টাকা বেড়েছে।  

বাবুবাজারের পাইকারী বাজারের দয়াল ভাণ্ডারের ম্যানেজার আনিসুল হক বাংলানিউজকে বলেন, বর্তমানে চালের মৌসুম, তারপরও চালের দাম চড়া। এ সময় চালের দাম এতো হওয়ার কথা না। উৎপাদনও অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি হয়েছে। মূলত মিলাররা কারসাজি করে চালের দাম বাড়িয়েছে। আমদানির খবরে চালের দাম একটু কমলেও আজ থেকে আবার বাড়তির দিকে। আজ বস্তায় ৫০ টাকা বেড়েছে। সরকারের দুর্বল মনিটরিংয়ের কারণে ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে। সরকারকে মনিটরিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে।

রায়সাহেব বাজারে খুচরা চালের ব্যবসায়ী মুক্তার হোসেন বলেন, গত এক সপ্তাহে দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা কমেছিল। কিন্তু সোমবার থেকে আবার কেজিতে ১ টাকা করে বেড়েছে।  

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, চাল আমদানিতে ট্যাক্স সাড়ে ৬২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। আশা করি আমদানির সব চাল এসে ঢুকলে তখন এর প্রভাব পড়বে, দাম কমবে। যারা ধান বা চাল মজুত করে রেখেছে তারা সেগুলো বাজারে ছেড়ে দেবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে গত ১২ আগস্ট চাল আমদানির শুল্ক কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এতে আমদানি শুল্ক ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়। এই সুবিধা আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকবে। এরপর চাল আমদানিতে আগ্রহী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আবেদন আহ্বান করে খাদ্য মন্ত্রণালয়। বরাদ্দ আদেশ জারির ১৫ দিনের মধ্যে এলসি (লেটার অব ক্রেডিট-ঋণপত্র) খুলতে হবে। বরাদ্দ পাওয়া আমদানিকারকদের ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরো চাল বাংলাদেশে বাজারজাতকরণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংকে এলসি খুলতে ব্যর্থ হলে বরাদ্দ বাতিল হয়ে যাবে বলেও শর্ত দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।