যে মামলায় গ্রেপ্তার হলেন ইবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিব

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে গতকাল শুক্রবার রাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি মামলায় কুষ্টিয়া সদর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। 

রাকিবের গ্রাপ্তারের বিষয়টি কুষ্টিয়া সদর থানা ও ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত দুই কর্মকর্তা (ওসি) নিশ্চিত করেছেন। 

তাকে যে মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় ওই মামলাটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় দায়ের করেছেন শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুয়েলে রানা হালিম। তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৫(১)(ক), ৩১(১) এবং ৩৫ (১) ধারায় এ মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ৩০ অক্টোবর বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বিজয় একাত্তর ও চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ নামের তিনটি ফেসবুক আইডি থেকে একটি অডিও কথোপকথন ভাইরাল হয়। ওই কথোপকথনে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং  সাবেক বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ সম্পাদক জুবায়ের রহমানের কন্ঠ শোনা যায়। সেই কথোপকথনে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম এবং আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সাংসদ মাহবুব উল আলম হানিফের এপিএস আমজাদ হোসেন রাজুর টাকা ভাগ বাটোয়ারার বিষয়টি উঠে আসে। এ ঘটনায় বাদী হয়ে গত ২ নভেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় মামলা করেন হালিম। মামলার ১ নং আসামি করা হয়েছে রাকিবকে এবং ২নং আসামি জুবায়ের।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ অক্টোবর জুবায়ের এবং রাকিবের ৪ মিনিট ৯ সেকেন্ডের একটি অডিও সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ভাইরাল হওয়া অডিওতে ইবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম ১০ কোটি টাকা আয় করেছেন বলে জুবায়ের রাকিবকে জানায়। এই টাকা থেকে দুই কোটি টাকা ভাগ পেয়েছেন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের এপিএস আমজাদ হোসেন রাজু এমন কথাও বলতে শোনা যায় জুবায়েরকে।

এ ঘটনায় গত ৩১ অক্টোবর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন শাখা ছাত্রলীগের সাবেক বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ সম্পাদক জুবায়ের রহমান।

ডায়েরিতে তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব গত ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় তাকে ফোন করে প্রধান ফটকে ডেকে নেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়েল ৩ নং গেটে নিয়ে গিয়ে অজ্ঞাত ৭-৮ জন বহিরাগত নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে রাকিবের লিখে নিয়ে আসা বক্তব্য তাকে বলতে বাধ্য করে এবং মোবাইলে রেকর্ডিং করে নিয়ে যায়। যা পরে ৩০ অক্টোবর বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করে ভাইরাল করা হয়। এসময় জুবায়েরকে রাকিব একথা ফাঁস করলে খুন করার হুমকি দেয় বলেও সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় জুবায়ের ও তার পরিবার নিরাপত্তহীনতায় ভুগছে বলেও ডায়েরিতে লেখা হয়।