বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারকে 'কাসুন্দি ঘাটা' বলায় ইবি ছাত্রীকে বহিষ্কারের দাবি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার বিচারকে 'কাসুন্দি ঘাটা' বলে তার বিচার নিয়ে কটূক্তি করায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর বহিষ্কার ও নাগরিকত্ব বাতিলের দাবি করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। 


মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনি মাজেদকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের একটি পোস্টে ওই ছাত্রী এমন মন্তব্য করে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতারা।

অভিযোগকৃত ছাত্রীর নাম সানজিদা ইসলাম ছন্দ (কমল ছন্দ)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের (২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী সাজ্জাদ হোসেন সাজু তার ফেসবুকের বঙ্গবন্ধু হত্যার আত্মস্বীকৃত খুনি মাজেদ গ্রেপ্তারের পর একটি পোস্ট দেন। সেই পোস্টে এই ছাত্রী লিখেছে, 'শেখ মুজিব যদি খুন না হত তাহলে কি সে এখনো পর্যন্ত বেঁচে থাকতো? মুজিবর রহমান অনেক বয়স পরই মারা গেছেন। কিন্তু আমরা আদিখ্যেতা জাতি একজনের খুনের বিচার করতে করতে ভুলেই যাই প্রতিদিন কতশত মানুষ আমাদের আশেপাশে খুন হচ্ছে, গুম হচ্ছে। আমরা পুরাতন কাসন্দি নিয়ে খুব বেশি ঘাটাঘাটি করতে পছন্দ করি।'

ওই ছাত্রীর এমন মন্তব্যের পর তার শাস্তি ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই পোস্ট দিয়েছেন। 

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামিম হাসান, আনিচুর রহমান আনিস, জামিলুর রেজা সেলিম, সাবেক অর্থ সম্পাদক হাসান ইমাম, সাবেক গণশিক্ষা সম্পাদক আবু রায়হান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শিশির ইসলাম বাবু, সাবেক উপ বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জুবায়ের আল মাহমুদ, ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, ছাত্রলীগ কর্মী নুর আলম, লুৎফুল্লাহিল পল্লব, নাসিম আহমেদ জয়সহ অনেকেই ওই ছাত্রীর বহিষ্কার দাবি করেছেন।

ইবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ বলেন, 'বিষয়টি খুবই ন্যাক্কারজনক। জাতির পিতার খুনির পক্ষে কথা বলেছে ওই ছাত্রী। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ওই ছাত্রীর বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছি। জাতির পিতাকে অস্বীকার করলে স্বাধীনতা ও বাংলাদেশকে অস্বীকার করা হয়। তাই তার নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ারও দাবি জানাই।'

সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, 'ইবির ১৭৫ একরের মধ্যে এ ছাত্রীকে দেখতে চাইনা। আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলব অতি শিগগিরই এ ছাত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। তা না হলে ইবি ছাত্রলীগ এর সমুচিত জবাব দিতে বদ্ধপরিকর।'

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী বলেন, ওই ছাত্রী গুরুতর অপরাধ করেছে। আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।