মাসে ১০২ শিক্ষার্থীকে নিজের টাকায় বৃত্তি দেন এমপি কুদ্দুস

কেটে গেছে ৭৫ বছর। মায়া, মমতা, সহানুভূতি, মানবতা, সহযোগিতা কোনোটাই কম ছিল না। সাধ্যের মধ্যে যখন যেটা পেরেছেন তখনি সেটা করেছেন। যা করেছেন এলাকার হতদরিদ্র ছিন্নমূল মানুষ, দেশ ও দশের কল্যাণে। তবে সাধারণ মানুষও তাকে মন প্রাণ দিয়ে ভালোবাসেন। কেন না তাদের মাঝেই বেঁচে থাকতে চান তিনি। বলছি চলনবিল অধ্যুষিত এলাকা নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়নে চলনবিল বিলশা এলাকার এক কৃষকের ঘরে জন্ম নেওয়া সাংসদ আব্দুল কুদ্দুসের কথা। বর্তমানে তিনি নাটোর জেলা আ-লীগের সভাপতি ও নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য।

বিগত সাত বছর ধরে নির্বাচনী এলাকা সহ বিভিন্ন এলাকার হত দরিদ্র ১০২ জন মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে ৫০০-১০০০/= টাকা করে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করছেন তিনি। প্রায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীই হতদরিদ্র ছিন্নমূল পরিবারের সন্তান। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তালিকাও রয়েছে তার শিক্ষাবৃত্তি তালিকার মধ্যে।

শিক্ষা বৃত্তি ছাড়াও তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে দিয়েছেন দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েদের বিয়ে, চিকিৎসা খরচসহ সার্বিক সহায়তা। একজন ভিক্ষুকও প্রতিদিন তার বাড়িতে ভিক্ষা নেওয়ার পরে এক কাপ চা খেয়ে আসেন। নির্বাচনী এলাকার হতদরিদ্র ছিন্নমূল মানুষদের মনে প্রাণে মিশে আছেন সাংসদ আব্দুল কুদ্দুস।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নাটোর-৪ আসন (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) থেকে জনগণ ভালোবেসে তাকে সাত সাত বার নির্বাচিত করেছেন। করেছেন এলাকার সার্বিক উন্নয়ন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে রাস্তা ঘাটসহ করেছেন শতভাগ বিদ্যুতায়ন।

শিক্ষাবৃত্তি পাওয়া অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্রী লিমা বলেন, টাকার অভাবে আমার এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপ হচ্ছিল না। তাই পরীক্ষাটা হয়তোবা দিতে পারবো না ভেবেছিলাম। এমনটা ভেবে কিছুদিন স্কুলে যাইনি। হঠাৎ একদিন আমাদের এলাকায় স্থানীয় সাংসদ আব্দুল কুদ্দুস এমপি স্যার এসেছিলেন। তারপর তাকে আমার কষ্টের কথা বললে তিনি প্রতি মাসে আমাকে পড়াশোনার খরচ বাবদ ১ হাজার করে টাকা প্রদান করেন এবং আমার স্কুল ড্রেস থেকে শুরু করে সার্বিক সহযোগিতা করেন। তার সহযোগিতায় আজ আমি এসএসসি, এইচএসসি পাশ করে অনার্সে পড়াশোনা করছি।

সাংসদ আব্দুল কুদ্দুস বলেন, হতদরিদ্র, আমার বাবা ছিলেন একজন কৃষক। অনেক সংগ্রাম করে আজ আমি এই অবস্থানে পৌঁছেছি। তবে হত দরিদ্র ছিন্নমূল মানুষদের ভালোবাসায় আজ আমি এখানে। আমি চেষ্টা করি সব সময় তাদের দুঃখ কষ্টগুলো ভাগাভাগি করে নেওয়ার। যতদিন বেঁচে আছি তাদের মাঝেই বেঁচে থাকতে চাই।