দেশত্যাগে বাধ্য হলেন সাংবাদিক জাকির

দুর্বৃত্তদের হামলা ও হুমকীর মুখে দেশত্যাগে বাধ্য হলেন সাংবাদিক মোহাম্মদ জাকির হোসেন। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লিখতে গিয়ে প্রভাবশালী মহলের কোপানলে পড়ে তিনি দীর্ঘদিন দেশের অভ্যন্তরে অনিশ্চিত জীবন কাটিয়েছেন। পুলিশের হাতে উপর্যুপরি হয়রানীর শিকার হয়ে নিজের জীবন রক্ষার প্রয়োজনে কয়েক মাস আগেই তিনি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তার কয়েকজন সাংবাদিক বন্ধু।

গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে ২৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার অদূরে নবাবগঞ্জে নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। সে হামলায় দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের অন্তত ১০জন সাংবাদিক আহত হন। মোহাম্মদ জাকির হোসেন যমুনা টেলিভিশনের অপরাধ বিষয়ক অনুষ্ঠান ৩৬০ ডিগ্রির সাংবাদিক ছিলেন। ওইদিনের হামলার সময় জাকির হোসেনকে সন্ত্রাসীরা মারধর করে মারাত্মক জখম করে এবং তুলে নিয়ে যায়। তার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্যসম্বলিত ক্যামেরা, মোবাইল ও মেমোরি কার্ড, নানা কাগজ ও পেনড্রাইভ ছিনতাই করে দুর্বৃত্তরা। তার কয়েকদিন পর তাকে আহত অবস্থায় কেরানীগঞ্জের ঢাকা মাওয়া সড়কের পাশে পাওয়া যায়।

মোহাম্মদ জাকির হোসেনের বড়ভাই মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন দাবি করেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে গিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনীর তোপের মুখে পড়েন জাকির। নির্বাচনের আগে নবাবগঞ্জের ওই হামলার মূল টার্গেট ছিলেন তিনি। ওই ঘটনা পর স্থানীয় সন্ত্রাসীরা তাকে তুলে নিয়ে যায়। এ নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনো লাভ হয়নি।

তিনি বলেন, জাকির হোসেন উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই জীবন সংশয়ে ছিলেন। পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা বাহিনীর নাম করে বারবার পরোক্ষভাবে মোবাইলে ভয়ভীতি দেখাতো। এতে তাদের গোটা পরিবার জাকির হোসেনকে নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় জীবন কাটাচ্ছিল। দিন বা রাতে একা চলাচল করতে পারতেন না জাকির। নিজের কর্মস্থল যমুনা টেলিভিশন থেকেও তেমন একটা সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব পাননি তিনি। শেষতক বাধ্য হয়ে তাকে দেশত্যাগ করতে হলো, যা আমাদের জন্য কষ্টের। কিন্তু আমরা এই ভেবে সেই কষ্টকে মেনে নিয়েছি, অন্তত বিদেশে থাকলে আমাদের ভাইটা প্রাণে বেঁচে থাকবে।

তবে মোহাম্মদ জাকির হোসেন দেশত্যাগ করে এই মুহূর্তে কোথায় আছেন তা বলতে পারেননি তার ভাই আলমগীর।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে নবাবগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহে যায় একদল সাংবাদিক। তারা সেখানকার থানা রোডে শামীম গেস্ট হাউসে অবস্থান করছিলেন। রাতে সেখানে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী অতর্কিতে হামলা চালায়। তারা সাংবাদিকদের বেদম মারধর করে এবং ১৮টি গাড়ি ও হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ ভাঙচুর করে। ঘটনার পর থেকেই খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক মোহাম্মদ জাকির হোসেনের। পরে জানা যায় তাকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তুলে নিয়ে যায়।

ওইদিন রাত ১১টা থেকে সশস্ত্র হামলাকারীরা প্রায় ঘণ্টাখানেক অবরুদ্ধ করে রাখে গণমাধ্যমকর্মীদের। এ সময় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে ফোন করার পর ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক কামরুল ইসলাম অবশ্য সে সময় দাবি করেছিলেন তারা খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।