গুরুদাসপুরে নানা আয়োজনে নবান্ন উৎসব পালিত

অগ্রহায়ণের নবান্ন নিয়ে আসে খুশির বার্তা। নতুন ধান ঘরে উঠানোর কাজে ব্যস্ত থাকে কৃষাণ-কৃষাণীরা। নতুন ধান ঘরে উঠলেই পিঠে পায়েস খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। পাড়ায় পাড়ায় চলে নবান্ন উৎসব। গ্রাম বাংলায় নতুন এক আবহের সৃষ্টি হয়।

নবান্ন উৎসবের সাথে মিশে আছে বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির নানা দিক। প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালি জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে নবান্নকে কেন্দ্র করে উৎসবে মেতে ওঠে। তারই ধারাবাহিকতায় নাটোরের গুরুদাসপুরে এই প্রথম অনুষ্ঠিত হলো নবান্ন উৎসব।

এ উপলক্ষে ব্যাপক উৎস উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় র‌্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পিঠা উৎসব। উৎসবে ১০টি স্টল অংশগ্রহণ করে। স্টলগুলোতে সর্বোচ্চ ৩২ প্রকার পিঠা দেখা যায়।

শনিবার বিকালে উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের শিধুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গুরুদাসপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের সহযোগিতায় ওই উৎসব পালিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তমাল হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে নবান্ন উৎসবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান, গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোজাহারুল ইসলাম, এমপিপুত্র আসিফ আব্দুল্লাহ বীন কুদ্দুস শোভন, এলাকার বীরমুক্তিযোদ্ধাসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তমাল হোসেন বলেন, বাঙালির ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনা, পরবর্তী প্রজন্মকে বাঙালির চিরায়ত এই ঐতিহ্যের সাথে পরিচয় করে দেওয়ার জন্যই এ আয়োজন। বাঙালির এই সত্ত্বা যেন বেঁচে থাকে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে সেই চেষ্টাই করা হচ্ছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, গুরুদাসপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের আয়োজনে এই নবান্ন উৎসব। নতুন প্রজন্মকে অপসংস্কৃতি, মাদক, ইভটিজিংসহ সকল প্রকার অপরাধ থেকে দূরে রাখতেই আমাদের এই আয়োজন। এই প্রথম উপজেলায় পালিত হলো নবান্ন উৎসব। আশা করি প্রত্যেক বছরেই ব্যাপক আঙ্গিকে নবান্ন উৎসব পালিত হবে।