তালতলীতে চাঁদা না দেওয়ায় শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ

চাঁদা না দেওয়ায় বরগুনার তালতলী উপজেলার কচুপাত্রা নিজামিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষক মাসুম বিল্লাহকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা নাজিম উদ্দিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় তালতলী থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে।

জানাগেছে, উপজেলার কচুপাত্রা নিজামিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় মাওলানা মাসুম বিল্লাহ ২০১২ সালে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। সম্প্রতি ওই মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দফতর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে প্রতিবেদন চেয়ে চিঠি দেন। এ খবরে গত ১৫ দিন ধরে প্রতিষ্ঠাতা নাজিম উদ্দিন হাওলাদার শিক্ষক মাসুম বিল্লাহর কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করে আসছে বলে অভিযোগ।

টাকা না দিলে মাদ্রাসা থেকে শিক্ষক পদ থেকে অব্যাহতি দিতে চাপ দেয় প্রতিষ্ঠাতা নাজিম উদ্দিন ও তার লোকজন। কিন্তু টাকা দিতে ও শিক্ষক পদ থেকে অব্যাহতিতে রাজি হয়নি শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ। এতে ক্ষিপ্ত্ হয় প্রতিষ্ঠাতা ও তার লোকজন। মঙ্গলবার দুপুরে কচুপাত্রা বাজারে প্রতিষ্ঠাতা ও তার ছেলে মিলে তাকে মারধর করে।
পরে স্থানীয়রা শিক্ষক মাসুম বিল্লাহকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। এ ঘটনার ইমাম মাসুম বিল্লাহ তালতলী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। খবর পেয়ে ওসি (তদন্ত) আরিফুর রহমান ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছেন।

শিক্ষক ও ইমাম মাসুম বিল্লাহ বলেন, ২০১২ সাল থেকে আমি বিনা বেতনে মাদ্রাসায় ক্লাস করে আসছি। বর্তমানে মাদ্রাসা এমপিওভুক্তি হওয়ার খবর পেয়ে প্রতিষ্ঠাতা আমার কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা না দিলে আমাকে শিক্ষক পদ থেকে অব্যাহতিপত্র দিয়ে চলে যেতে চাপ দেন প্রতিষ্ঠাতা। আমি এতে রাজি না হওয়ায় আমাকে প্রতিষ্ঠাতা ও তার ছেলে মাসুম মারধর করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

কচুপাত্রা নিজামিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা নাজিম উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে মাসুম হাওলাদারের মুঠোফোনে বলেন, আমার বাবাকে লাঞ্চিত করেছে বিধায় আমি হাত ধরে টান দিয়েছি। কিন্তু মারধর করিনি।

তালতলী থানার ওসি (তদন্ত) আরিফুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।