রাজশাহীতে চাকরি দেওয়ার নামে ১৭ লক্ষ টাকা আত্মসাত

রাজশাহীতে রেলে চাকরি দেওয়ায় নামে ১৭ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে মামুন (৩০) নামের এক রেলওয়ে কর্মচারীর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় আজ শুক্রবার ওই প্রতারকের বিরুদ্ধে চন্দ্রিমা থানায় একটি অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী রেলওয়ে কর্মচারী রবি ঘোষ (৫০)।

ভুক্তভোগী রবি ঘোষ জানায়, ২০১৬ সালে তার ভাতিজা রাজিব কুমার ঘোষ, তার ভাই রনি ঘোষ ও রেলওয়ের সিএসটি'র বড় বাবু আকবরের ছেলে মিজানুর রহমানকে এমএলএসএস ও পোর্টার পদে তাদের তিন জনকে চকুরি নিয়ে দেওয়ার জন্য ২১ লক্ষ টাকায় মৌখিক চুক্তি হয় জহুরুলের ছেলে মামুনের সাথে। পরে রবি ঘোষের নিকট অগ্রিম ১৭ লক্ষ টাকা গ্রহণ করে মামুন। প্রতারক মামুন রাজশাহী রেলওয়ে হাসপাতালের চৌকিদার পদে কর্মরত আছেন।

তিনি জানান, পরে ২০১৭ সালে নিয়োগের তালিকায় ভুক্তভোগী তিনজনের নাম না থাকায় তারা তাদের প্রদানকৃত অর্থ ফেরত চায়। এরপর থেকে দিবো দিচ্ছি করে সময় পার করেন প্রতারক মামুন। পরে ভুক্তভোগীরা রেলওয়ে আরবিআর শাখা'র সভাপতি মোতাহার হোসেন, সাধারন সম্পাদক মেহেদি হাসান, আইনুল হক ও ওপেন লাইন শাখা'র সাধারণ সম্পাদক এমএ আক্তারের নিকট বিচার প্রার্থী হন। তারা ভুক্তভোগীদের অর্থ উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার পরমর্শ দেন।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার নগরীর শিরোইল কলোনী রেলওয়ে কোয়াটারের বাসিন্দা ওপেন লাইন শাখার সভাপতি ট্রলিম্যান জহরুলের ছেলে মামুনের বাড়িতে টাকা চাইতে যায় ভুক্তভোগীরা। এ সময় রেলওয়ে কর্মচারী ও নেতা জহুরুল তার ছেলে মামুন, রাব্বিসহ আরো ২/৩ জন সহযোগী মিলে তাদের বেধড়ক পেটায়। এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে ভুক্তভোগী রবি ঘোষ বাদী হয়ে চন্দ্রিমা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয়ে জানতে জহরুল ইসলামের মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি বলেন, টাকা লেনদেনের বিষয়ে আমার জানা নেই। মারধরের বিষয়টিও এড়িয়ে যান তিনি ।

অপরদিকে অভিযুক্ত মামুনের মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, অর্থ নিয়ে প্রতারণা ও মারধরের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের জন্য (উপ-পরিদর্শক) এসআই রাজুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।