তাহিরপুরে চাচাকে বাবা পরিচয় দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলন

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় চাচাকে বাবা উল্লেখ করে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে।

জানা যায়, নিঃসন্তান মুক্তিযোদ্ধা নুর মিয়াকে তারেই আপন ভাতিজি বাবা উল্লেখ করে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানি ভাতা উত্তোলন করছে। আর এই কাজটির মূল কাবিগর মুক্তিযোদ্ধার আপন ছোট ভাই আবুল হোসেন। তিনি নিজের দ্বিতীয় সন্তান হালিমা বেগমকে মুক্তিযোদ্ধা নুর মিয়ার সন্তান উল্লেখ করে ভুল তথ্য দিয়ে গত ৪ বছর ধরে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানি ভাতা উত্তোলন করাসহ অন্যান্য সুবিধা নিজেই ভোগ করছেন।

এই অভিযোগ তুলেছেন মৃত মুক্তিযোদ্ধার বড় ভাই মিয়া হোসেন। তিনি এ ঘটনায় তাহিরপুর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর পর থেকেই নানান ভাবে নিজেদের বাচাঁতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আবুল হোসেন গংরা।

এ বিষয়ে আবুল হোসেনের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলেও কোনভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগকারী মিয়া হোসেন (মুক্তিযোদ্ধার বড় ভাই) বলেন, আমি অভিযোগ দিয়েছি যাতে করে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়দানীকারীরা মুক্তিযোদ্ধার ভাতা না পায়। কারণ আমার ভাই মারা গেছে নিঃসন্তান অবস্থায়। এরপর তার বউ আমার ছোট ভাইয়ের কাছেই বিয়ে বসে। তাহলে কিভাবে আবুলের ২য় মেয়ে হালিমা আমার মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়ের সন্তান হয়। এই সন্তান আবুল হোসেনের। সে ভুল তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার ভাতা তুলে খাচ্ছে। এর বিচার হওয়া দরকার।

তাহিরপুর উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে হাজির হবার জন্য অভিযুক্তদের প্রথমে ১০ দিন পরে আবারও ১ মাস সময় চেয়েছে। গত ৩ ডিসেম্বর আবারও সময় চেয়েছে তরা। তাই তাদের সময় দেওয়া হয়েছে। যাকে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান উল্লেখ করা হয়েছে তা আমাদের প্রথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। এই বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে ডিএনএ টেষ্ট করা হবে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসী জানান,উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে মৃত ওলি মামুদের ছেলে নুর হোসেন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীন হবার পর তিনি তাহিরপুর উপজেলার চিসকা গ্রামের মনসুর আলীর মেয়ে সাফিয়া বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের দেড় মাস পর নিঃসন্তান অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা নূর মিয়া মারা যান। পরিবর্তীতে সাফিয়া বেগম দেবর (মুক্তিযোদ্ধা নূর মিয়ার ছোট ভাই) আবুল হোসেনকে বিয়ে করেন। আবুল হোসেনের সংসারে ৮ জন ছেলে মেয়ে রয়েছে। প্রথম সন্তান আকলিমা বেগমের জন্ম তারিখ ১৯৮৬ সালে। ২য় মেয়ে হালিমা আক্তারের জন্ম তারিখ ১৯৮৭ সালে।