কপোতাক্ষ নদে অবৈধ ড্রেজিং বসিয়ে বালি তুলে বিক্রি

ঝিনাইদহের কপোতাক্ষ নদ এর মধ্যে পুকুর কেটে সেখানে খননযন্ত্র বসিয়ে বালি উঠিয়ে বিক্রি করছেন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সলেমানপুরের এক প্রভাবশালী ব্যাক্তি। গত কয়েকমাস তিনি এভাবে বালি উঠিয়ে বিক্রি করলেও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। আর এই খননযন্ত্র দিয়ে বালি উঠিয়ে বিক্রি করার কারনে নদ এর তলদেশ ফাঁকা হচ্ছে, যা এলাকার নদী ভাঙ্গন সৃষ্টির আশংকা রয়েছে।

গত সোমবার (৬ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা গেছে, কপোতাক্ষ নদের কোটচাঁদপুর এলাকার একটি স্থান থেকে খননযন্ত্র (ড্রেজার মেশিন) দিয়ে বালি উঠানো হচ্ছে। যে স্থান থেকে বালি উঠানো হচ্ছে সেটি কোটচাঁদপুর উপজেলার সলেমানপুর, আর নদীর ওপারে রয়েছে মহেশপুর উপজেলার আলামপুর গ্রাম।

স্থানীয়রা বলছেন,  প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তারা মানুষের চোখ ফাঁকি দিয়ে কোটচাঁদপুর সীমানার মধ্য থেকে বালি উঠিয়ে মহেশপুর সীমানার একটি গ্রামে রেখে বিক্রি করছেন। আর এ জন্য নদীর এপাড় থেকে ওপাড় পর্যন্ত পাইপ লাইন বসানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, যশোর জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কপোতাক্ষ নদটির কিছু অংশ ঝিনাইদহের মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলার উপর দিয়ে গেছে। নদটি মহেশপুর উপজেলার পুরন্দপুর এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে খালিশপুর বাজার পার করে মহেশপুর শহরে প্রবেশ করেছে। এই নদীর কোটচাঁদপুর অংশের সলেমানপুর এলাকায় বিশাল আকৃতির পুকুর কাটা হয়েছে। সেখানে খননযন্ত্র বসিয়ে বালি উঠানো হচ্ছে।

স্থানীররা আরও জানান, গত ৩ থেকে ৪ মাস এভাবে বালি উঠানো চলছে। এভাবে বালি উঠানোর কারনে নদীর তলদেশ ফাঁকা হচ্ছে। যা নদী ভাঙনের কারণ হতে পারে। এভাবে বালি উঠানোর পরও কারো পক্ষে সম্ভব নয় প্রতিবাদ করার। কারণ সোহেল সরদারের ভাই সেচ্ছাসেবকলীগের নেতা। সোহেল নিজেও যুবলীগ করেন। স্থানীয়রা বালি উঠানো বন্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের নিকট দাবি জানিয়েছেন। 

এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনিন সুলতানার সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানান।