গুরুদাসপুরে পুকুর খননের মহোৎসব, কমছে কৃষি জমি

নাটোরের গুরুদাসপুরে জনপ্রতিনিধিরা যখন করোনাভাইরাস নিয়ে ব্যাস্ত তখন এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। ‘জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করা যাবে না’ এমন সরকারি নির্দেশনা থাকলেও নাটোরের গুরুদাসপুরে ফসলি কৃষি জমিগুলোকে টুকরো টুকরো করে কেটে খনন করা হচ্ছে পুকুর। এতে করে উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষি জমির পরিমাণ। স্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগিতায় কৃষি জমিতে পুকুর খননের এই মহাউৎসব চলছে।

জানা যায়, এক শ্রেণির পুকুর ও ইটভাটা ব্যবসায়ীরা কৃষকদের ফসলি জমিতে পুকুর খননের লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে স্বার্থ সিদ্ধি করে নিচ্ছেন। উপজেলা সদরসহ ইউনিয়নের অধিকাংশ কৃষি জমিতে মাটি কাটা মেশিন দিয়ে ৬ থেকে ৮ ফুট গভীর করে জমির চারদিকে বাঁধ দিয়ে পুকুর খননের এই মহাউৎসব চলছে। 

দিনরাত বিরতিহীন পুকুর খনন করে সেই মাটি আবার স্থানীয় বিভিন্ন ইটভাটায় সরবারহ করা হচ্ছে। কৃষকরা না বুঝে হারাচ্ছেন তাদের উর্বর ফসলি জমি, অন্যদিকে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন এক শ্রেণির প্রভাবশালী পুকুর ব্যবসায়ীরা। 

নাটোর, পাবনা, এমনকি রাজধানী ঢাকা থেকে এসে স্থানীয় কিছু ব্যক্তিদের সহযোগিতায় কৃষি জমিতে পুকুর খননের এই উৎসব চলছে। ব্যক্তি মালিকানা জমির পাশাপাশি সরকারের ১নং খতিয়ানভুক্ত জমিও এই পুকুর দস্যুদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.তমাল হোসেন বলেন, পুলিশ প্রশাসন জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। অন্যথায় এসব অপকর্ম রোধ করা সম্ভব হবে না। তদুপরি ইতোমধ্যেই অনেক অবৈধ ইট ভাটা এবং পুকুর মালিককে জেল জরিমানা করেছি। আমাদের এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।