ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেই করোনা সুরক্ষা সামগ্রী

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুরক্ষা সামগ্রী না থাকার কারণে চিকিৎসা দিতে পারছে না রোগীদের। এ কারণেই রোগীরা করোনা আতঙ্কের কারণে হাসপাতালেও আসছেন না।

এদিকে হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের যথাযথ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) ছাড়াই দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড–১৯) ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি সাধারণ কাপড়ের গাউন, একটি মাস্ক আর একজোড়া গ্লাভস পড়েই চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীরা।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ এবং টিকিট কাউন্টারে কর্তব্যরত অবস্থায় কাউকেই ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়নি। ভেতরের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরেও একই চিত্র দেখা গেছে।

জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনরত দুজন চিকিৎসক বলেন, যতটুকু সম্ভব দুরত্ব ও নিরাপত্তা বজায় রেখে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। যে গাউন পড়ে তাঁরা দায়িত্ব পালন করছেন, সেটিকে কোন অবস্থাতেই পিপিই বলা যাবে না।

বহির্বিভাগে পুরুষ এবং মহিলা কাউন্টারে দায়িত্বরত কর্মচারীরাও কোনো ধরনের পিপিই পরিহিত ছিলেন না। তাছাড়া তথ্য ও অনুসন্ধান কেন্দ্রেও একই চিত্র। সাধারণ একটি মাস্ক পড়েই রোগীদের সেবা দিচ্ছেন তাঁরা।

হাসপাতালের একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স জানান, স্বাভাবিক অবস্থায় ২৪ বিছানার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১২০ জন রোগী ভর্তি থাকতো। করোনাভাইরাসের আতঙ্কে গত এক সপ্তাহ থেকে রোগী কমতে কমতে ১৫ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। আতংকের কারণে রোগীরা নিজেরাই ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

হাসপাতালের একাধিক সিকিউরিটি গার্ডরা বলছেন, আগে রোগীর স্বজন ও দর্শনার্থীদের কোন ভাবেই সামাল দেয়া যেত না। করোনাভাইরাসের কারণে হাসপাতালে দর্শনার্থী আসা বন্ধ হয়ে গেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে মাত্র ১২০ পিস পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে। যা খুবই অপ্রতুল। এগুলো আবার একবার ব্যবহারযোগ্য। তাই গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে সেগুলো বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরবরাহ করা হচ্ছে।