পুঠিয়ায় ভেজাল ও মেয়াদউত্তীর্ণ বালাইনাশক বিক্রি, প্রতারিত চাষিরা

রাজশাহীর পুঠিয়ায় কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে যত্রতত্র গড়ে উঠছে বালাইনাশক বিক্রয়ের দোকান। চাষিদের অভিযোগ অধিকাংশ ডিলারগণ ভেজাল ও মেয়াদউত্তীর্ণ বালাইনাশক বিক্রি করে রাতারাতি মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে করে স্থানীয় চাষিরা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন।

সোমবার (৬ এপ্রিল) চাষিদের অভিযোগ পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওইসব ভেজাল বালাইনাশক বিক্রয়কেন্দ্রে অভিযান পরিচালনা করেছেন।

জানা গেছে, উপজেলার পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়ন এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাবে যত্রতত্রভাবে গড়ে উঠছে খুচরা সার ও বালাইনাশক বিক্রয় কেন্দ্র। উপজেলা কৃষি কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় ওই ডিলারগণ ভোজাল ও মেয়দউত্তীর্ণ কৃষি উপকরণ বিক্রি করছে। তাদের নিকট থেকে চাষিরা সার ও বালাইনাশক ক্রয় করে প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছে।

এ সকল ঘটনায় সম্প্রতি ভোক্তা অধিকার আইনে অভিযোগ করেন চাষিরা। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার উপজেলার মহনপুর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওলিউজ্জামান। এ সময় বিভিন্ন ডিলারদের মেয়াদ উত্তীর্ণ বালাইনাশক বিক্রি করার দায়ে জরিমানা করা হয় এবং জব্দকৃত ভেজাল মালামালগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিসিআইসির সার ডিলার বলেন, কৃষি অফিসের তদারকির অভাবে কিছু অসাধু লোকের সহায়তায় অবৈধ সার ও বালাইনাশক বিক্রয়ের দোকান গড়ে উঠছে। তারা অস্তিত্বহীন কারখানা থেকে ভেজাল সার ও বালাইনাশক ক্রয় করে বাজারজাত করছে।

সাব-সার ডিলারগণ বলেন, বিভিন অনিয়মের কারনে গত কয়েক বছর পূর্বে কৃষি অফিসে ৩০ হাজার টাকা করে জামানত দিয়ে ৬৩ জন সাব-ডিলার তালিকাভুক্ত হয়। কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে বর্তমানে উপজেলায় প্রায় শতাধিক অবৈধ সার ও কীটনাশকের দোকান গড়ে উঠেছে। তারাই প্রতিনিয়ত এলাকার সাধারণ কৃষকদের সাথে প্রতারণা করছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামসুনাহার ভূঁইয়ার সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোন কিছু বলেন নি। 

তবে নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওলিউজ্জামান বলেন, আমাদের অভিযান চলমান। যেখানেই অনিয়ম করা হবে সেখানেই অভিযান চলবে।