ইসলামপুরে ইউএনওর প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে অবৈধ বালুর ট্রাক জব্দ এলাকাবাসীর

জামালপুরের ইসলামপুরে মিথ্যে তদন্ত দাখিল ও বাঁধ ভাঙনকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে অবৈধ বালুর ট্রাক জব্দ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। 

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।

জানা যায়, উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নের মোরাদাবাদ এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ী চক্র দীর্ঘদিন ধরে যমুনা নদী থেকে বুলগেট মেশিনে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছেন। এতে নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে শশারিয়াবাড়ি, হরিণধরা, গোয়ালডোবা, চহারচর, নামারচর, ফরিপাড়া, রাজনগর, করিরতাইর, ভাংবাড়ী ও রায়েরপাড়া নামক ৯টি ফসলী নতুন চর। এছাড়াও নদী ভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে সরকারের ৪৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সদ্য নির্মিত যমুনার বামতীর সংরক্ষণ বাঁধ। 

স্থানীয়রা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেন। কিন্তু অর্ধশতাধিক পয়েন্টে অবৈধ বালু উত্তোলন হলেও রহস্যজনক কারণে সম্প্রতি 'ইসলামপুর উপজেলায় কোথাও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হচ্ছে না' এই মর্মে জেলা প্রশাসক বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন ইউএনও মিজানুর রহমান। 

ইউএনওর এই মিথ্যে তদন্তের ফলে নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন আর বন্ধ হয়নি। বালু ব্যবসায়ীরা বুলগেট মেশিন, মাহিন্দ্র ট্রাক্টর ও ভটভটি যোগে প্রতিদিন হাজার হাজার সেপ্টি বালু বিক্রি করছে। 

তাই ক্ষুব্ধ হয়ে ৬ এপ্রিল মোরাদাবাদ ঘাট এলাকা থেকে বালু বোঝাই একটি ট্রাক স্থানীয়রা আটক করে। পরে ওইদিন সন্ধায় বালু ব্যবসায়ী চক্ররা পুলিশ পাঠিয়ে বালুর ট্রাকটি উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। ইসলামপুর থানা পুলিশের একটি দল বালুর ট্রাকটি উদ্ধার করতে গেলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ট্রাকটি ছেড়ে দেননি। 

এর আগে স্থানীয় কৃষকরা বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ করেও কোন সমাধান পাননি। উল্টো বালু উত্তোলন বন্ধের অভিযোগ করায় বালু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সদস্যদের হাতে নিরীহ কৃষকরা লাঞ্ছিত হয়েছে। বালু ব্যবসায়ীরা নিরীহ কৃষকদের মারধর করাসহ কয়েক দফা প্রাণনাশের হুমকিও প্রদান করেছে। 

এ ব্যাপারে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার কোন মন্তব্য পাওয়া যায় নি।