বিস্কুট চাওয়ায় শিশু ছাত্রদের মারধর করল দপ্তরি

বরগুনার আমতলীতে স্কুল ফিডিংয়ের বিস্কুট চাওয়ায় শিশু শ্রেণির ছাত্র সৃজন হোসেন (৬) ও তার ভাই সিয়াম (৯) কে বেধরক মারধর করেছে স্কুলের দপ্তরি মাহবুব আলম। পরে স্বজনরা আহত দুই ছাত্রকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।


বুধবার (১৩ মে) উপজেলার খাকদান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে এবং বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিশু ছাত্রদের পরিবার ঘটনার সাথে জড়িত দপ্তরি মাহবুব আলমসহ তিন জনের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

জানা যায়, উপজেলার খাকদান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই ভাই সৃজন হোসেন শিশু শ্রেণিতে এবং সিয়াম হোসেন তৃতীয় শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। বুধবার ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিংয়ের বিস্কুট বিতরণ করা হয়। ওই বিস্কুট আনতে সৃজন ও সিয়াম বিদ্যালয়ে যায়। এসময় বিদ্যালয়ের দপ্তরি মাহবুব ওই দুই ভাইকে বিস্কুট না দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। পরে ছাত্র সিয়াম প্রতিবাদ করলে দপ্তরি দুই ভাইকে বেধরক মারধর করে গুরুতর আহত করে। খবর পেয়ে স্বজনরা আহত সৃজন ও সিয়ামকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।

পরে দুই ছাত্রের মা মাহফুজা খানম ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে দপ্তরি। এ বিষয়ে মাহফুজা খানম প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন মন্টুর নিকট গেলে তিনি কোন প্রতিকার করেনি। পরে বৃহস্পতিবার তাদের বাবা আবদুস ছালাম বাদী হয়ে দপ্তরি মাহবুব আলমকে প্রধান করে তিনজনের নামে আমতলী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার নিখিল চন্দ্র বলেন, শিশু সৃজনের চোখে ফুলা ও জখমের চিহৃ রয়েছে। যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

আমতলী থানার ডিউটি অফিসার এসআই শহীদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। ওসি স্যারের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মজিবুর রহমান বলেন, এ বিষয়টি আমি শুনেছি। ওই ছাত্রদের বাবাকে এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিতে বলেছি। 

এ ব্যাপারে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন বলেন, বিষয়টির লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।