আগৈলঝাড়ায় খাদ্যাভাবে মধ্যবিত্তদের চাপা কান্না

করোনাভাইরাসের মহামারী ঠেকাতে সরকারের নির্দেশে মানুষকে ঘরে থাকতে হচ্ছে বাধ্যতামূলকভাবে। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে অনেকেই। সারাদেশের ন্যায় বিপাকে পড়েছে বরিশালের আগৈলঝাড়ার মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষজন। করোনা প্রভাবে খাদ্যাভাবের অসুবিধায় থাকলেও লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু বলতে না পেরে চাপা কান্না দেখা দিয়েছে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের মাঝে। 


উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী উপজেলায় মোট পরিবারের সংখ্যা ৩২ হাজার ৮শ’ ৩৯টি। ওই সকল পরিবারের লোকসংখ্যা ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮শ’ ৫৬ জন। এর অর্ধেকেরও বেশি মানুষ মধ্যবিত্ত শ্রেণির।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারের ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় ২৩ মার্চ থেকে চলতি মাস পর্যন্ত আগৈলঝাড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের জন্য ১শ’ ১১ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য ও ত্রাণ কাজে ব্যবহারের জন্য ৫ লাখ ২৭ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারের ওই বরাদ্দকৃত চাল উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে প্রশাসন নিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে নিবিড় পর্যবেক্ষক (ট্যাগ অফিসার) নিয়োগের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৫৯ মেট্রিক টন চাল বিতরণের কাজ চলমান রয়েছে। বাকি ৫২ মেট্রিক টন চাল গুদামে থাকলেও এখনো বিতরণ করা হয়নি।

তাই কর্মহীন শ্রমজীবী লোকজনের পাশাপাশি দীর্ঘদিন যাবত মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরাও ঘরে আটকা থাকায় চরম অবস্থার মধ্যে দিনযাপন করছে। জেলা ও পৌর এলাকায় সরকারে খোলা বাজারে ১০ টাকা কেজি দরে (ওএমএস) চাল বিক্রির সুবিধা থাকলেও উপজেলা পর্যায়ে ডিলারের মাধ্যমে তা খোলা বাজারে সরকারের ওই চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। তাই এমতাবস্থায় সরকারের কাছে সহায়তার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন মধ্যবিত্ত পরিবাররা।