মান্দায় মাছ নিধন করে চলছে পুকুর খনন

নওগাঁর মান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আন্দইল বিলে কতিপয় প্রভাবশালীরা বিষ প্রয়োগ করে কোটি টাকার মাছ নিধন করে শত শত বিঘা সরকারি খাস জলাশয় অবৈধভাবে দখল করে ভেকু মেশিন দিয়ে পুকুর খনন করছে বলে অভিযোগ স্থানীয় মৎস্যজীবীদের। এতে করে মুক্ত জলাশয় থেকে মাছ ধরতে না পারায় কয়েক হাজার মৎস্যজীবী পরিবার পরিজন নিয়ে পথে বসতে চলেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলার বৃহত্তর মান্দা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কয়েক হাজার বিঘা জমি নিয়ে অবস্থিত আন্দইল বিল। শত বছর ধরে বিলের আশেপাশের প্রায় তিনটি মৎস্য সমবায় সমিতির প্রায় ৩ হাজার সরকারি নিবন্ধনধারী মৎস্যজীবীরা এই মুক্ত জলাশয় থেকে বছরের ৬ মাস মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। উপজেলার শাঁটিল গ্রামের সূর্যকান্তের ছেলে উজ্জ্বল কুমারের নেতৃত্বে কতিপয় প্রভাবশালীরা বছর খানেক থেকে হাজার হাজার মৎস্যজীবীদের বাধা উপেক্ষা করে বিলের মাঝে অবৈধভাবে প্রায় শতাধিক বিঘা জমিতে বিশাল আকারে একাধিক পুকুর খনন করে। নতুন করে অবৈধভাবে পুকুর খনন কাজে মৎস্যজীবীরা বাধা দিলে তারা তাদের নানা রকমের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় মৎস্যজীবীদের। 

অবৈধভাবে পুকুর খনন বন্ধে মৎস্য সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে সম্প্রতি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তারপরেও প্রভাবশালীরা পুনরায় নতুন করে কোটি কোটি টাকার প্রাকৃতিক মাছ নিধন করে পুকুর খনন শুরু করে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের বাধার মুখে প্রভাবশালীরা পুকুর খনন বন্ধ করে দেয়।

গ্রামের একাধিক মৎস্যজীবীরা বলেন, 'এভাবে যদি উজ্জ্বল কুমার বিলের মাঝে বিশাল দিঘি খননের কাজ করতেই থাকে তাহলে আমরা পরিবার নিয়ে না খেয়ে মারা যাব। এটা উন্মুক্ত জলাশয়, এটা উন্মুক্ত হিসেবেই রাখতে হবে। তাই আমাদের দাবি এখানে কোন দিঘি খনন করা যাবে না।'

অভিযুক্ত উজ্জ্বল কুমার বলেন, 'আমি জমির প্রকৃত মালিকদের কাছ থেকে জমিগুলো ১০ বছরের জন্য লিজ নিয়ে এতে পুকুর খনন করছি। মৎস্যজীবীরা অন্যায়ভাবে আমার কাজে বাধা দিচ্ছে। এ বিষয়ে হাইকোর্টের একটি রায় আছে আমার পক্ষে।'

এ ব্যাপারে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, আমার কাছে অভিযোগ আসার পরই আমি বিলে পুকুর খনন কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। এছাড়াও হাইকোর্টে চলা মামলার কাগজপত্রাদি আমি পেয়েছি। পরবর্তীতে সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও কয়েক হাজার জেলেদের জীবন-জীবিকা নিশ্চিতকরণে অচিরেই এই বিলে সকলধরনের কৃত্রিম পুকুর খননের কাজ চিরস্থায়ীভাবে বন্ধ করা হোক এমনটাই দাবি স্থানীয়দের।