উপকূলবাসীদের এবারও রক্ষা করল সুন্দরবন

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন ঘূর্ণিঝড় আমফানের তাণ্ডব থেকে বাগেরহাটের উপকূলবাসীকে আবারো বুক পেতে রক্ষা করেছে। দেশের জন্য সুন্দরবনকে সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদই বলা চলে। যুগ যুগ ধরে ভয়ঙ্কর, প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় থেকে এ দেশ ও জাতিকে রক্ষা করেছে এই সুন্দরবন। সুন্দরবনের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি বা কোন প্রাণহানি ঘটেনি বাগেরহাটের শরণখোলা, মোরেলগঞ্জে ও মোংলায়। তবে সুন্দরবনের বন্য প্রাণী, গাছপালা ও বন বিভাগের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।


জানা যায়, ২০০৭ সালের প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় সিডর এবং পরবর্তীতে আইলা, মহাসিন, নার্গিস, ফনি ও বুলবুলের থেকে উপকূলবাসীকে রক্ষা করেছিল সুন্দরবন। এবারেও তার কোন ব্যতিক্রম ঘটেনি। ঘূর্ণিঝড় আমফানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করেছে শরণখোলার মানুষকে। তবে উপজেলার সাউথখালীতে নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধের দুই কিলোমিটার ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসসিএফ) মো. জয়নাল আবেদিন জানান, সুন্দরবন প্রতিবারের মত এবারও উপকূলবাসীকে রক্ষা করেছে। প্রতিবার ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে সুন্দরবনের ক্ষতি হয়। গাছপালার ক্ষতি হলে নিজেই আবার তা পুষিয়ে নেয়। তবে প্রতিবারেই বন বিভাগের অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। গত বছরে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত করে উঠতেই এ বছর আবার আমফানের আঘাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড়ে সুন্দরবনে কোন বন্য প্রাণী মারা গেছে কি না এবং গাছপালা অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনের জন্য শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের এসিএফদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পৃথক দুইটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। তারা তিনদিনের মধ্যে রিপোর্ট দাখিল করবেন।