করোনা ভয়ে পালিয়েও রক্ষা হয়নি বৃদ্ধের, উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু

হাসপাতাল থেকে করোনা সন্দেহে ভয়ে পালানোর দশ দিন পরে বরগুনার আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে আবদুল লতিফ খন্দকার (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার আশেপাশের ১০ বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করেছে প্রশাসন। 

শনিবার (২৩ মে) সকালে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, উপজেলার আমতলী সদর ইউনিয়নের চলাভাঙ্গা গ্রামের বৃদ্ধ আবদুল লতিফ খন্দকার বাড়িতে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। গত ১৩ মে তিনি আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেন। শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছে তার করোনাভাইরাসের উপসর্গ ধরা পড়ে এবং চিকিৎসকরা তাকে নমুনা পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার কথা শুনেই বৃদ্ধ হাসপাতাল থেকে পালিয়ে আসেন। পরে গত মঙ্গলবার তার অবস্থা বেগতিক দেখে পরিবারের লোকজন তাকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে করোনা ইউনিটের আইসোলেশন ভর্তি করেন। 

গত বৃহস্পতিবার ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা তার নমুনা সংগ্রহ করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে পাঠায়। গত চারদিন তিনি আমতলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। নমুনা প্রতিবেদন আসার পূর্বেই শনিবার সকালে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। পরে তার বাড়িসহ আশেপাশের ১০টি বাড়ি লকডাউন করেছে প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিধি মেনে তার দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। 

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, তার নমুনা সংগ্রহ করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন আসলে জানা যাবে তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কি না।

এ ব্যাপারে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন বলেন, মৃত লতিফ খন্দকারের এলাকার ১০ বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। করোনা প্রটোকল মেনে জানাযা শেষে তার লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।