পুঠিয়ায় ঘূর্ণিঝড় আমফানে শতকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

রাজশাহীর পুঠিয়ায় ঘূর্ণিঝড় আমফানের আঘাতে আম, ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ শেষে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। এতে বলা হয়েছে স্থানীয় চাষিদের ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রায় শতকোটি টাকা।


উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিস সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় আমফানের আঘাত লেগেছে পুঠিয়া উপজেলাতেও। এতে করে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আমে। তথ্য অনুসারে প্রায় তিনশ’ হেক্টর আম বাগানের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ঝড়ের আঘাতে বিভিন্ন প্রকার বনজ, ফলজ বাগান ও গাছপালা ব্যাপক ধ্বংস হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আমফানের আঘাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় শতকোটি টাকা।

স্থানীয় চাষিরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে গাছপালার পাশাপাশি ফসলও নষ্ট হয়েছে। তার ওপর ঝড়ের সাথে মাত্রারিক্ত বৃষ্টির পানিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের বেশিরভাগ জমি তলিয়ে গেছে। এতে করে চাষিরা চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন।

আমচাষি আমির হোসেন বলেন, 'করোনা মহামারির মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডব দেখা গেল। আমার নিজের আম বাগান আছে ৫ বিঘা। আর বিভিন্ন এলাকায় লিজ নেয়া আছে আরো প্রায় ৩৫ বিঘা। মৌসুমের শুরুতে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতের কারণে বাগানের প্রায় অর্ধেক আম নষ্ট হয়েছে। এরপর গাছে থাকা অনেক আমের গায়ে দাগ লেগেছে। ওই দাগের কারণে অনেক কম দামে আম বিক্রি করতে হবে। আশঙ্কা করা হচ্ছে এবার আমার কয়েক লাখ টাকা লোকসান গুনতে হবে।'

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামসুন্নাহার ভূইয়া বলেন, ঘূর্ণিঝড় আমফানে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপন করে আমরা ইতিমধ্যে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছি। প্রতিবেদনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ টাকার অঙ্কে না করলেও আমরা ধারণা করছি এর পরিমান প্রায় শতকোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের আর্থিক সহায়তার জন্য একটি তালিকা প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে তা ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের মাঝে বিতরণ করা হবে।