ইসলামপুরে অবৈধভাবে চলছে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে বাঁধ

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় প্রশাসন ম্যানেজের নামে নদী থেকে ড্রেজার মেশিনে দেদারছে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। ফলে আশপাশের এলাকার একমাত্র নদী ভাঙন রোধের বাঁধ পড়েছে হুমকির মুখে।

জানা যায়, উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের মরাকান্দী টুংরাপাড়া গ্রামের দশআনী নদীতে একাধিক অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় চিহ্নিত 'বালু খেকো' চক্র । যারা এলাকায় ‘উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তার চামচা’ হিসেবে পরিচিত।

সরেজমিনে দেখা যায়, টুংরাপাড়া গ্রামে দশআনী নদীর উপর নির্মিত ব্রিজের দু’পাশে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বসতভিটা উঁচুকরণ করা হচ্ছে। স্থানীয় শহিজল আমীন ব্রিজের উত্তর পাশে নদী ভাঙন রোধে বাঁশের আড়াআড়ি বাঁধ ঘেঁষে নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে টুংরাপাড়া ব্রিজের পূর্ব পাশে ইসলামপুর-ঝগড়ারচর পাকা সড়ক সংলগ্ন নতুন বসতভিটা নির্মাণ করা হচ্ছে। একইভাবে দশআনী নদীর আশেপাশে অন্তত অর্ধশত স্থানে নদী থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এমন কি অবৈধভাবে সরকারি প্রকল্পেও বালু দেয়া হয়।

নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে পড়েছে দশআনী ব্রিজসহ নদী ভাঙন রোধে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁশের আড়াআড়ি বাঁধ। এছাড়া ভাঙন আশঙ্কায় রয়েছে শত শত বসতভিটাসহ ফসলী জমি, প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ইসলামপুর-ঝগড়ারচর পাকা সড়ক, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন।

এলাকাবাসীরা অনেকেই জানান, উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করার নামে নদী থেকে বালু উত্তোলনকারীদের নিকট প্রতি এক হাজার সেপটি বালুর বিপরীতে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে স্থানীয় বালু খেকো চক্র। টাকা না দিলে অগ্নি সংযোগ করে ড্রেজার মেশিন পুড়িয়ে দেয়। লাখ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে ড্রেজার মালিকদের। সে কারণেই বাধ্য হয়ে বালু উত্তোলন করতে ওই চক্রকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয় ড্রেজার মালিক ও বালু উত্তোলনকারীদের।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাধারণত বালু উত্তোলন করতে ড্রেজার মেশিন মালিকদের প্রতি এক হাজার সেপটি বালুর উত্তোলনের জন্য দিতে হয় এক হাজার থেকে ১২শত টাকা। কিন্তু প্রশাসনকে ম্যানেজের নামে প্রতি এক হাজার সেপটি বালুর উত্তোলনের জন্য হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে ১৬ থেকে ২০ হাজার টাকা।