কুষ্টিয়ায় ধানের বাম্পার ফলন, তবুও শঙ্কায় চাষিরা

কুষ্টিয়া জেলার ৬টি উপজেলায় বোরো আবাদের ফলন নিয়ে কৃষকের মনে আনন্দ থাকলেও মাঠ থেকে ধান তোলা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে চাষিরা। কালবৈশাখী ঝড় আর শিলাবৃষ্টিতে ফসল নষ্টই না হয়ে যায় সে দুশ্চিন্তা তাদের।

অতি সম্প্রতি কুষ্টিয়ার উপর দিয়ে রয়ে যাওয়া  কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ইতিমধ্যে অনেক ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। তার পরও বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে এমনটি আশা করছে কুষ্টিয়ার কৃষি বিভাগ। এদিকে কুষ্টিয়ার মাঠে মাঠে কৃষকদের ধান কাটা উৎসব শুরু হয়ে গেছে। অনেক চাষিরা তাদের কাঙ্খিত বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়া জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩৩ হাজার ২৮০ হেক্টর জমি সেখানে আবাদ হয়েছে ৩৫ হাজার ১৩০ হেক্টর জমি।  এর মধ্যে কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় লক্ষ্য মাত্রা ছিল ১৩ হাজার ৭৫৬ হেক্টর সেখানে অর্জিত হয়েছে ১৩ হাজার ৭৫১ হেক্টর জমি, খোকসা উপজেলায় ১ হাজার ২২৫ হেক্টর সেখানে অর্জিত ১ হাজার ৩৫৫ হেক্টর, কুমারখালী উপজেলায় ৪ হাজার ১৫৫ হেক্টর সেখানে অর্জিত হয়েছে ৪ হাজার ৫৩৫ হেক্টর , মিরপুর উপজেলায় ৮ হাজার ৪৫৫ হেক্টর সেখানে অর্জিত হয়েছে ৯ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমি, ভেড়ামারায় ১ হাজার ৫৫৫ হেক্টর সেখানে অর্জিত ১ হাজার ৫৬৫ হেক্টর জমি ও দৌলতপুর উপজেলায় ৪ হাজার ১৩৪ হেক্টর জমি সেখানে অর্জিত হয়েছে ৪ হাজার ৪৯৪ হেক্টর জমিতে।  

ধানের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায়  চাষিরা বোরো আবাদে ঝুঁকলেও আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে চাষিরা লোকসান গুনবে বলে জানান স্থানীয়রা।
চাষিরা বলেন, সেচ, সার বীজ ও পরিচর্যার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের বোরো আবাদে খরচ হয়েছে দ্বিগুন।  তাই ধানের মুল্য কমে গেলে তারা লোকসান গুনবে বলে মত প্রকাশ করছে।

তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার উপ-পরিচালক শ্যামল কুমার বিশ্বাস বলেন, আবহওয়া অনুকূলে থাকায় বোরো আবাদের ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকরা এবার ধানের মূল্য পাবে ভালো। হতাশ হবার কারণ নেই। তবে কালবৈশাখী ঝড় আর শিলাবৃষ্টি হলে ধানের কিছুটা ক্ষতি হবে।