তাহিরপুরের সাবেক ইউএনওর বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত শুরু

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর হতে বদলিকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে দুদকের দেয়া অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে।

সোমবার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)মো. জসীম উদ্দিন সরেজমিনে এসে তদন্ত কাজ শুরু করেন। ইউএনও নিজেও সোমবার তাহিরপুর উপজেলা সদরে অবস্থান করেন।

ইউএনও পদ্মাসন সিংহকে সম্প্রতি জেলার তাহিরপুর হতে জগন্নাথপুর উপজেলায় বদলি করা হয়।

দুদকে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) থাকা অবস্থায় পদ্মাসন সিংহ উপজেলার বড়দল উওর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য গোলাম কিবরিয়া ওরফে কিবরিয়া মেম্বারের সাথে  যোগসাজশে নদী হতে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু নিলামে বিক্রির প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গোপনে বিক্রি করে সরকারি মূল্য, ভ্যাট আয়কর সহ রাজস্ব ফাঁকির পায়তারা করেন। এ মর্মে দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধান কার্যালয় অভিযোগটি দুদক কার্যালয়ের ২০২০ সালের ১৯ আগষ্ট  তারিখে ১৫৯৬৭ নং স্মারকে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসককে প্রতিবেদন প্রেরণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

এ বিষয়ে ২০২১ সালের ৭ মার্চ তদন্ত দিন তারিখ নির্ধারিত থাকলে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির অজুহাতে  তদন্তের তারিখ পেছানো হয়।

প্রসঙ্গত ২০২০ সাালে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো তাহিরপুরের মাহারাম, শান্তিপুর বালু মহালবিহিন নদী হতে অবৈধভাবে উত্তোলন করা কয়েক কোটি টাকার বালু জব্দ করেন। এরপর নিলাম আহ্বান করা হলেও কৌশলে ইউএনওকে ব্যবহার করে নিলাম ভন্ডুল করায় একটি সিন্ডিকেট।

পরবর্তীতে ইউএনওর সাথে গোপন সমঝোতায় সরকারি কাজের অজুহাত তৈরী করে কিবরিয়া মেম্বার  টানা কয়েকমাস ট্রলার ( নৌযান) বোঝাই করে সরকারি মূল্য, ভ্যাট আয়কর বা কোন রকম রাজস্ব ছাড়াই কোটি টাকার বালু সরিয়ে নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করে দেন।  

সোমবার একাধিকবার ইউএনও পদ্মাসন সিংহ'র মুঠোফোনে বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। এরপর ক্ষুধে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোন রকম রকম বক্তব্য প্রদান করেননি।

সোমবার সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দিনের নিকট তদন্ত অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, সরজমিনে তদন্ত কাজ প্রায় শেষ করেছি। এখন জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার পর তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন এবং তদন্ত প্রতিবেদন দুদকে প্রেরণ করবেন।