শ্যালিকাকে ধর্ষণ ও ভিডিও ফেসবুকে পোষ্ট, দুলাভাই আটক

কুষ্টিয়ায় শ্যালিকার নগ্ন ভিডিও ফেসবুকে পোষ্ট দেয়ার অভিযোগে দুলাভাইকে আটক করেছে পুলিশ।  তার বিরুদ্ধে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণেরও অভিযোগ আছে।  

এ ঘটনায় শাশুড়ির দায়ের করা লিখিত অভিযোগে অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাককে আটক করে পুলিশ। সে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের বাগবাড়িয়া গ্রামের আব্দুর সাত্তারের পুত্র।

শুক্রবার (৩০ জুলাই) দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়ন পরিষদের পিছনের বাদশার বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

পুলিশ ও ভিকটিমের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আট বছর পূর্বে ভিকটিমের বড় বোনের সাথে আব্দুর রাজ্জাকের বিয়ে হয়। সংসার জীবনে তাঁদের ৪ বছরের এক ছেলে সন্তান আছে। স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়া গত ২৩ জুন রাজ্জাককে তালাক দেয় তাঁর স্ত্রী। স্ত্রীর তালাকে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ৮ জুলাই সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া শ্যালিকাকে তুলে নিয়ে আত্মগোপন করেন দুলাভাই রাজ্জাক। মেয়েকে খোঁজাখুজি করে কোথাও না পেয়ে কুমারখালী থানায় সাধারণ ডায়েরী দায়ের করেন ওই ছাত্রীর মা। যার জিডি নং ৪৫৭, তাং ১২/০৭/২০২১।

জিডির সুত্র ধরে স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার অভিযান চালাতে থাকে পুলিশ। এরই মধ্যে গত বুধবার(২৮ জুলাই) স্কুল ছাত্রীর দুলাভাই আব্দুর রাজ্জাক তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে শ্যালিকার তিন মিনিটের এক নগ্ন ভিডিও প্রচার করে। এরপর শুক্রবার দুপুরে পান্টি ইউনিয়ন পরিষদের পিছনের ভাড়াবাসা থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার ও দুলাভাই রাজ্জাককে আটক করে পুলিশ।

এ বিষয়ে ভিকটিমের মা বলেন, রাজ্জাক খারাপ প্রকৃতির ছেলে। মাদকসহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়ায় বড় মেয়ে তাঁকে তালাক দেয় গত ২৩ জুন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ৮ জুলাই ছোট মেয়েকে তুলে নিয়ে আত্মগোপন করে এবং জোরপূর্বক একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেন। এরপর সেই নগ্ন ভিডিও ফেসবুকে প্রচার করে। তিনি আরো বলেন, থানায় অভিযোগ দিয়েছি। উপযুক্ত শাস্তি চাই।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের পর জোরপূর্বক ধর্ষণ ও ফেসবুকে নগ্ন ভিডিও প্রচার করার অভিযোগে রাজ্জাক নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।