কুষ্টিয়ায় ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।


এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার ভাতাবঞ্চিত প্রায় অর্ধশত নারী-পুরুষ উপজেলা সমাজসেবা অফিসে অবস্থান নিয়ে অনশন করেছেন। পরে দৌলতপুরের ইউএনও শারমিন আক্তার ভাতাবঞ্চিতদের সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে তারা অনশন প্রত্যাহার করে সেখান থেকে নিজ নিজ বাড়ি ফিরে যান।


এদিকে বুধবার জেলা সমাজসেবা দপ্তরের উপপরিচালক দিনভর উপজেলা সমাজসেবা অফিসে এসে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ভাতাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি চললেও কিছুতেই এর প্রতিকার মিলছে না। ফলে এই দপ্তরকে ঘিরে গড়ে উঠেছে দালাল সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের লোকজন অসহায় মানুষের বিভিন্ন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। অনেকে ভাতার কার্ড পাওয়ার আশায় ধারদেনা করে দালালদের হাতে টাকা তুলে দিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। তারা দিনের পর দিন অফিসে ধর্না দিয়েও কাঙ্ক্ষিত কার্ড পাচ্ছেন না। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার যোগসাজশে দালাল চক্রের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।


মঙ্গলবার উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের ভাতাবঞ্চিত বিভিন্ন বয়সী প্রায় অর্ধশত নারী-পুরুষ উপজেলা সমাজসেবা অফিসে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন। দৌলতপুরের ইউএনও শারমিন আক্তার মঙ্গলবার রাতে দুই দফা সমাজসেবা অফিসে যান। প্রথম দফায় রাত ৯টার দিকে ইউএনও ওই অফিসে গিয়ে তাদের অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এরপর রাত ১১টার দিকে ইউএনও দ্বিতীয় দফায় সমাজসেবা অফিসে গিয়ে ভাতাবঞ্চিতদের সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়ায় তারা অনশন প্রত্যাহার করে বাড়ি ফিরে যান।


অনশনকারীদের অভিযোগ, এক বছর ধরে তারা বিভিন্ন ভাতার টাকাপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউএনও, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাসহ নানা জায়গায় ধর্না দিয়েও প্রতিকার পাননি। তাদের প্রত্যেকের নামে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড থাকা সত্ত্বেও সমাজসেবা কর্মকর্তার নির্দেশে ওই অফিসের কর্মচারীরা ভাতার টাকা আত্মসাৎ করে আসছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারা ভাতা পেয়েছেন। এরপর পুরো এক বছর ধরে এসব ভাতাপ্রাপ্তি থেকে তারা পুরোপুরি বঞ্চিত রয়েছেন। 


এ কারণে ভাতাবঞ্চিতরা তাদের এসব ন্যায্য ভাতার দাবিতে সমাজসেবা অফিসে আমরণ অনশন করার সিদ্ধান্ত নেন। বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাবঞ্চিত বিভিন্ন বয়সী প্রায় অর্ধশত নারী-পুরুষ অনশন শুরু করেন। তাদের মধ্যে গর্ভবতী নারীও ছিলেন। তবে এই গরীব, অসহায় মানুষগুলো দিনভর অফিসটিতে অনশন করলেও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের খোঁজখবর পর্যন্ত নেননি বলে তারা জানান। এদিকে মঙ্গলবার দিনভর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আতাউর রহমানকে অফিসে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।


শালিমপুর মোল্লাপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে প্রতিবন্ধী সুরুজ আলীর অভিযোগ, তার নামে ভাতার কার্ড থাকলেও তিনি কোনো টাকা পাননি। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার কার্ডের টাকা নিয়মিত উত্তোলন করা হয়েছে। সমাজসেবা অফিসের লোকজন তাদের দালালদের মাধ্যমে এসব টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে।


পিয়ারপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ লালু জানান, এসব ভাতার টাকা সমাজসেবা অফিসের মাঠপর্যায়ের কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে আত্মসাৎ করা হয়েছে।


উপজেলা সামাজসেবা কর্মকর্তা আতাউর রহমানের সঙ্গে বুধবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য না দিয়ে অফিসে দেখা করার কথা বলেন।


দৌলতপুরের ইউএনও শারমিন আক্তার বলেন, তিনি এই কমিটির একজন সদস্যমাত্র। এর পরও ভাতাবঞ্চিতদের অনশন ভাঙাতে রাতে দুই দফা সমাজসেবা অফিসে যান। রাত ১১টার দিকে বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে আশ্বস্ত করার পর অনশনকারীদের বাড়ি ফেরানো হয়। সংশ্নিষ্ট সবাইকে নিয়ে বসে বিষয়টি শিগগিরই সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


কুষ্টিয়া সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক রোখসানা পারভীন বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের কিছুটা সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।