‘তোর বেঈমানি ও পরকীয়ার জন্য আত্মহত্যা করলাম’

কুমিল্লায় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক যুবলীগ নেতা। তার নাম এমরান হোসেন মুন্না (২৯)। স্ট্যাটাসে লেখা ছিল, 'আর পাঁচটা মানুষের মতো আমার জীবন না। মনে রাখিস, তোর বেঈমানি ও পরকীয়ার জন্য আত্মহত্যা করলাম আমি...'।


জানা যায়, ৮ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর পরিবারের অমতেই বিয়ে করেন এমরান ও ঊষা। কিন্তু এক বছর পার না হতেই তাদের দাম্পত্য জীবনে নেমে আসে অশান্তি। স্ত্রী ঊষা ঢাকায় পড়াশোনা করেন। সেখানে আরেকটি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। নানাভাবে চেষ্টা করেও স্ত্রীকে পরকীয়া সম্পর্ক থেকে ফেরাতে না পেরে অভিমানে আত্মহত্যা করেন এমরান হোসেন মুন্না। তিনি কুমিল্লা মহানগর যুবলীগের সদস্য।
 
গত বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কুমিল্লা নগরীর বারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার রাতে স্ত্রী সৈয়দা সাজিয়া শারমিন উষার (২৮) বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন নিহতের বাবা মো. মতিউর রহমান।  

মামলা সূত্রে জানা যায়, শহরতলীর বারপাড়া এলাকার মো. মতিউর রহমানের ছেলে এমরান হোসেন মুন্না। লাকসামের রাজাপুর এলাকার খিলা বাজার গ্রামের সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে সৈয়দা সাজিয়া শারমিন ঊষা। একসময় কুমিল্লা কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউটের (বর্তমানে সরকারি সিটি কলেজ) শিক্ষার্থী ছিলেন মুন্না ও ঊষা। দুইজন এক বছরের সিনিয়র-জুনিয়র। কলেজ জীবনে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তারা। প্রেমের সম্পর্ক থেকে ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের বছর খানেক পর থেকেই তাদের পারিবারিক জীবনে টানাপড়েন শুরু হয়। ঊষা ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুবাদে বেশিরভাগ সময় ঢাকায় থাকতেন। আর মুন্না প্রথমে কুমিল্লায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করলেও পরে চাকরি ছেড়ে কুমিল্লায়ই ঠিকাদারি ব্যবসা শুরু করেন। দিনদিন তাদের মধ্যে সম্পর্কে ফাটল ধরে।

নিহত মুন্নার পরিবারের অভিযোগ, ঊষা ঢাকায় সোহেল নামে এক ছেলের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে মুন্নাকে বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতন করতেন। চাহিদা মতো টাকা দিতে না পারার অজুহাতে মরে যাওয়ার কথা বলে কটাক্ষ করতেন। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মুন্না। গত বুধবার তিনি আত্মহত্যার প্রস্তুতি নিয়ে স্ত্রীকে ছবি পাঠান এবং মেসেজ করেন। কিন্তু স্ত্রী কর্ণপাত করেননি। কাউকে জানাননি। বরং উল্টো উসকানিমূলক কথাবার্তা বলেন। এতে মুন্না ক্ষোভে নিজের শোবার ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরিবারের লোকজন আওয়াজ পেয়ে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মারা যান মুন্না। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল বাদ যোহর গুধির পুকুরপাড় ঈদগাহে এমরান হোসাইন মুন্নার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আন্ওয়ারুল আজিম বলেন, পরিবার আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা করেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। এটা প্রমাণ সাপেক্ষ বিষয়। তাই কেন তিনি আত্মহত্যা করেছেন, তা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা যাবে না।