একরাতে মধুমতির গর্ভে ২০ দোকান

মধুমতি নদীর ভাঙনে গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়া বাজারের ২০টি দোকান মালামালসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফাটল ধরেছে আরো ২০/২২ টি দোকানে, হুমকির মুখে ওই বাজারের কয়েক’ শ দোকান।

জানাগেছে, শুক্রবার ভোর রাতে জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভাটিয়পাড়া বাজারের নদী শাসন বাধঁ ভেঙে হঠাৎ করে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় ২০টি দোকান। কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই ব্যবসায়ীদের মালামাল ও গুদামের পাটসহ ২০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানায়, মসজিদের মুয়াজিন বাজার মসজিদে আজান দিতে এসে  প্রথমেই দেখে বাজারের পশ্চিম পার্শ্বের মধুমতি নদীর তীরে অনেকগুলি দোকান নেই। দোকানগুলি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

বাজারের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম জানায়, সকালে বাজারে এসে দেখি আমাদের দোকানপাট নেই। মিষ্টি ব্যবসায়ী শ্বশান বিশ্বাস জানায়, রাতে বেচাকেনা করে দোকানে তালা দিয়ে বাড়ি গিয়েছি। সকালে দোকান খুলতে বাজারে এসে দেখি আমার দোকানসহ আশেপাশের দোকান গুলি নেই।

মুদি ব্যবসায়ী মোঃ আলতাব চৌধুরী একই ভাবে তার ভাগ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনার বনর্না দিতে গিয়ে অঝোরে চোখের জল ফেলেন। তারা জানায়, এখানে আগে কোন ধরনের ফাটল দেখেনি, এখানে নদী শাষনের কাজ করা ছিলো। এসব ব্যবসায়ীরা তাদের মালামাল বের করে নেওয়ার শেষ সুুযোগ পর্যন্ত পায়নি।

বাজারের ব্যবসায়ীরা জানায়, এ পযর্ন্ত মোঃ জাকির হোসেন, শ্বশান বিশ্বাস, আলতাব চৌধূরী, আওলাদ হোসেন, মোঃ জিয়া, মোঃ হায়দার, মোঃ আজাদ, মোঃ হারুনার রশিদ, মোঃ মিলন, মিনাল, মোঃ সোহেল মোল্লা, হিরণ কারিকর,শ্যামল সাহা, রশিদ, রমিজ, রনি সাহা, মোঃ জিয়াউর রহমান, সফিকুল ইসলাম, তারা মিয়া, মোঃ হায়দার হোসেন ও শামীম কাজির দোকানসহ ২০টি দোকান বিলীন হয়েছে। আরো বিশটি দোকানে ইতমধ্যে ফাটল ধরেছে। উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভাটিয়াপাড়া বাজারটির আরো কয়েকশত দোকান হুমকীতে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদী গর্ভে  বিলীন হয়ে যেতে পারে সম্পূর্ণ বাজার।

এদিকে সংবাদ পেয়েই খুব ভোরে গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী মোঃ ফইজুর রহমান, উপজেলা নিবার্হী অফিসার রথীন্দ্র নাথ রায়, কাশিয়ানী থানার ওসি মো মাসুদ রায়হান, ইন্সপেক্টর মোঃ ফিরোজ আলম ঘটনাস্থলে পৌছাঁন। তারা ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ নদীতে ফেলার চেষ্টা করছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জিও ব্যাগ ফেলার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী মোঃ ফইজুর রহমান ও উপজেলা নিবার্হী অফিসার রথীন্দ্র নাথ রায় জানান, দুই কোটি টাকার বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ভাঙন রোধে আমরা দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলার চেষ্টা করছি যাতে বাজারটির বাকি অংশ রক্ষা করা যায়।