বগুড়ায় খালেদার মুক্তির দাবিতে বিএনপির স্মারকলিপি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে তার সুচিকিৎসার দাবিতে বগুড়ায় ডিসিকে স্মারকলিপি দিয়েছে জেলা বিএনপি।

বুধবার বেলা ১২টায় জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক এ স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।

বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও পৌর মেয়র রেজাউল করিম বাদশার নেতৃত্বে স্মারকলিপি প্রদানকালে যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল, আলী আজগর তালুকদার হেনাসহ জেলা বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাওয়ার পথে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন নেতাকর্মীরা। পরে বাঁধা উপেক্ষা করে তারা স্মারকলিপি প্রদান করেন।

জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক বিএনপি'র নেতাকর্মীদের স্মারকলিপি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রেজাউল করিম বাদশা বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারকে জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, 'বেগম জিয়ার কিছু হলে তার সকল দায় সরকারকেই নিতে হবে তখন এই দেশের সংগ্রামী মানুষ বসে থাকবে না।'

বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, কোন প্রকার বাঁধা দেয়া হয়নি। ডিসি অফিসে নেতাদের সাথে অনেক কর্মী যেতে চাওয়ায় তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল।

গুরুতর অসুস্থ বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর এ বছর এপ্রিল থেকে মে পর্যন্ত টানা ৫৪ দিন হাসপাতালে ছিলেন তিনি। খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।

দুর্নীতি মামলায় দণ্ড নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান। দেশে করোনা মহামারি শুরুর পর পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত বছর ২৫ মার্চ ‘মানবিক বিবেচনায়’ তাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয় সরকার। তখন থেকে তিনি গুলশানের ভাড়া বাসা ফিরোজা’য় রয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার অনুমতি চেয়ে বেশ কয়েকবার আবেদন করেছে তার পরিবার। কিন্তু সরকার সেই আবেদন আমলে নেয়নি। যদিও এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য হলো, সাময়িক মুক্তির শর্ত অনুযায়ী তাকে দেশে রেখেই চিকিৎসা দিতে হবে। বিদেশে যেতে হলে কারাগারে ফিরে আবেদন করতে হবে।