রাজশাহীর ১৩ ইউনিয়নে জয়ী যারা

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচেন তৃতীয় ধাপে রাজশাহীর দুইটি উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ভোট গণনা শেষে বিজয়ীদের নাম বেসরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ করা হয়। অনেকটা শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট গ্রহণ হয়েছে। তবে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে কয়েকটি কেন্দ্রে।

১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টিতে আওয়ামী লীগ ও তিনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। স্বতন্ত্র তিন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী দুই ও একজন জামায়াত নেতা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

পবা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকে চারজন এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) হিসেবে দুই জন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। বাকি একটিতে জামায়াত নেতা বিজয়ী হয়েছেন। তবে হরিপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় আওয়ামী মনোনীত নৌকার প্রার্থী বজলে রেজবী আল হাসান মুঞ্জিল আগেই বিজয়ী হয়েছেন।

পবা উপজেলার হুজুরীপাড়া ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের গোলাম মোস্তফা ৮৮৯৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) দেওয়ান রেজাউল করিম (মোটরসাইকেল) পেয়েছেন ৭৭৮৯ ভোট। দামকুড়া ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে রফিকুল ইসলাম ৪১৬৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র (বিএনপির) আব্দুস সালাম পেয়েছেন ৩৪৯৫ ভোট। বড়গাছী ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে শাহাদত হোসাইন সাগর ১১০৫৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র (বিএনপির) সোহেল রানা পেয়েছেন ৯৬১৩ ভোট।

দর্শনপাড়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র (আ'লীগের বিদ্রোহী) প্রার্থী শাহাদত হোসেন সাব্বির (আনারস) ৪০৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান চেয়ারম্যান নৌকা প্রতীকের কামরুল হাসান রাজ পেয়েছেন ২৯৮৬ ভোট। পারিলা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) সাঈদ আলী মোরশেদ (ঘোড়া) ১২৯৭৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) সাইফুল বারী ভুলু (আনারস) পেয়েছেন ৭৫১৩ ভোট। হড়গ্রাম ইউনিয়নে স্বতন্ত্র (জামায়াত নেতা) আবুল কালাম আজাদ (অটোরিকশা) ৬৯৫৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাড. আবু আসলাম ৫২৩৪ পেয়েছেন ভোট।

মোহনপুরের ধুরইল ইউনিয়নে দেলোয়ার হোসেন (নৌকা) ১১৫৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী স্বতন্ত্র (বিএনপি) আনারস প্রতীকে কাজিম উদ্দিন পেয়েছেন ৫৫০৪ ভোট। ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে আজাহারুল ইসলাম ৬৯৪২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) আনারস প্রতীকে আফজাল হোসেন বকুল পেয়েছেন ৬৬১৮ ভোট। রায়ঘাটি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে বাবলু হোসেন ৩৮০৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) চশমা প্রতীকে সুরঞ্জিত সরকার ৩২৮৬ পেয়েছেন।

মৌগাছি ইউনিয়নে আল আমিন বিশ্বাস (নৌকা) ১১৭৬৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম স্বতন্ত্র (বিএনপি) প্রার্থী চশমা প্রতীকে আবুল হোসেন খান পেয়েছেন ৮৭৫৯ ভোট। বাকশিমইল ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে আব্দুল মান্নান ৮৩৯১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) প্রার্থী আনারস প্রতীকে আল মোমিন শাহ গাবরু পেয়েছেন ৭৩১৯ ভোট। জাহানাবাদ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে হযরত আলী ৮৯৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী স্বতন্ত্র (বিএনপি) আনারস প্রতীকে এমাজ উদ্দিন খান পেয়েছেন ৪৭০০ ভোট।