বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করা বগুড়ার সেই আ.লীগ নেতার পদত্যাগ

বগুড়ার শেরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব আম্বিয়া বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ ওঠায় স্বেচ্ছায় দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

গত রবিবার দিবাগত রাত ১০টায় তার স্বাক্ষর করা পদত্যাগপত্রটি বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনুর নিকট পৌঁছে দেওয়া হয়।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় বগুড়া জেলা আ’লীগের সদস্য ও উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক আহসান হাবিব আম্বীয়ার স্বেচ্ছায় পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তৃতীয় ধাপে হয়ে যাওয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অত্র উপজেলার ৯ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব আম্বিয়ার বক্তব্যের একটি অডিও-ভিডিও ভাইরাল হয়। এতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সম্পর্কে কটূক্তিপূর্ণ মন্তব্য করেন। বিষয়টি নিয়ে দলীয় ফোরামে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সেই বিষয় নিয়ে সোমবার বিকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। কিন্তু তার পূর্বেই নিজের কৃতকর্মের দায় নিয়ে ওই আওয়ামী লীগ নেতা দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর।

অপরদিকে বঙ্গবন্ধু ও দলীয় প্রধানকে নিয়ে কটূক্তি করায় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ, মহাসড়ক অবরোধ ও কুশপুত্তলিকা দাহ করে।

পনের মিনিটের ওই ভিডিও-অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভ্রাম্যমাণ মাজার নিয়ে বাড়ী বাড়ী ঘুরলেও জনগণ ভোট দেবে না। এমনকি জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হলে সারা দেশে আওয়ামী লীগ ৩০টির বেশি আসন পাবে না। দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের মাথায় কোনো মাল বা বুদ্ধি নেই।

স্বেচ্ছায় পদত্যাগকারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব আম্বিয়া নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, কম্পিউটারে আমার বক্তব্য এডিটিং করে বিকৃত করা হয়েছে। আমি যা বলেছি, তা সম্পূর্ণ উল্টোভাবে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে।